পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে অবদান রাখায় চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৪’ পদকের মাধ্যমে সম্মাননা দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। সম্মাননা প্রদানে সহযোগিতায় ছিল পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরুপল্লব’।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার।
যাদের পদক দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- মিজানুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম, সবুজ চাকমা ও প্রজেক্ট সোনাপাহাড়।
মিজানুর রহমান
বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য ও নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ শিক্ষায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি পরিবেশ রক্ষায় তিনটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন, পরিবেশবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেছেন এবং হাজারো শিক্ষার্থীকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যারা বর্তমানে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মো. আমিনুল ইসলাম
সূচিশিল্পী ও উদ্যানপ্রেমী মো. আমিনুল ইসলাম ১৫ বিঘা জমিজুড়ে ‘গাছবাড়ি’ উদ্যান গড়ে তোলার জন্য ‘বৃক্ষসখা’ সম্মাননা পেয়েছেন। উদ্যানে প্রায় ১০ হাজার গাছপালা এবং ২৫০ প্রজাতির দুর্লভ ও অনন্য গাছ রয়েছে। তিনি শিক্ষার সঙ্গে বাগানবিদ্যা ও বন্যপ্রাণী পরিচর্যার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
সবুজ চাকমা
রাঙামাটিতে কমিউনিটিভিত্তিক পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করার জন্য পদক পেয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি পাখিবান্ধব চারা বিতরণ করেছেন এবং সড়কের পাশে হাজারো বৃক্ষরোপণ করেছেন। সওজ লেক ভিউ গার্ডেনসহ একাধিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগও তার।
প্রজেক্ট সোনাপাহাড়
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মস্তাননগরে অবস্থিত ‘প্রজেক্ট সোনাপাহাড়’ বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ‘মিয়াওয়াকি’ বন গড়ে তোলার জন্য সম্মাননা পেয়েছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের প্রভাব মোকাবেলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধান অতিথি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সম্মাননাজয়ী প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। বন, নদী, বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশ রক্ষা কারো একক দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। এই পদক প্রমাণ করে টেকসই উন্নয়নযাত্রায় পরিবেশ রক্ষাই মূল শক্তি।
বিশেষ অতিথি নূরুন নাহার বলেন, এই পরিবেশ হিরোরা দেখিয়েছেন, টেকসই উন্নয়নের শুরু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যক্তির হাত ধরেই। তাদের কর্মকাণ্ড এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, যেখানে উন্নয়ন ও প্রকৃতি পাশাপাশি চলবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, এই পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক তাদের নিরলস কাজের স্বীকৃতি এবং সমাজে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অনুপ্রেরণা।
তরুপল্লব-এর সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন বলেন, প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় আমাদের আরও সহযোগিতা দরকার। একসঙ্গে কাজ করলে কার্যক্রম বিস্তৃত হবে এবং আরও মানুষ অনুপ্রাণিত হবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও (কারেন্ট চার্জ) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক বিশ্বাস করে, প্রকৃত উন্নয়ন পরিবেশের উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। যারা প্রকৃতি রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, এই পদক তাদের জন্য। বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে আমরা সবসময় নির্ভরযোগ্য সহযোগী হয়ে থাকব।
খ্যাতনামা প্রকৃতিবিদ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা, যার জীবন ও কাজ অসংখ্য মানুষকে প্রকৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তার স্মৃতিতে সম্মান জানিয়ে এই পদক চালু করা হয়েছে।
জেডএ/আরবি