মংলা (বাগেরহাট) থেকে: ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে দুই যুগে পা রেখেছে, দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড।
বরাবরের মতো ২০১৪ সালেও প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী লভ্যাংশ দিয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির ২৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) লভ্যাংশসহ, ২০১৪ সালের বার্ষিক বিবরণী, আর্থিক হিসাব ও পরিচালকদের প্রতিবেদন শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিতে অনুমোদিত হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে বাগেরহাটের মংলা বন্দর অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানা প্রাঙ্গণে এজিএমটি অনুষ্ঠিত হয়।
মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক মাহাবুব মোরশেদ হাসানের সভাপতিত্বে এতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নিরপেক্ষ পরিচালক খাজা আহমেদুর রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব হায়দার খান, সংবাদমাধ্যম উপদেষ্টা আবু তৈয়ব।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব-উজ-জামান, তৌহিদুল ইসলাম, কোম্পানি সচিব এম নাসিমুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কমপ্ল্যায়েন্স নিরীক্ষকরা।
সভাপতির বক্তব্যে মাহাবুব মোরশেদ হাসান বলেন, আপনাদের (শেয়ারহোল্ডার) সহযোগিতা ও প্রেরণায় দুই যুগ ধরে এগিয়ে চলেছে, মেঘনা সিমেন্ট। ২০১৪ সাল ছিল ঘটনাবহুল ও ক্রান্তিকাল। ফলে, দেশের সরকারি ও বেসরকারিখাতে ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, বছরটিতে বিশ্বে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বেড়েছে।
দেশে সিমেন্ট উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি উল্লেখ করে মাহাবুব মোরশেদ হাসান বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে সিমেন্টের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। ভোক্তাপ্রতি সিমেন্ট ব্যবহারের হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে খুবই কম। সম্প্রতি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক নির্মাণে কংক্রিট ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়েছেন।

এটি হলে সিমেন্ট খাতের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মাহাবুব মোরশেদ হাসান।
তিনি বলেন, নানা বাধা ও প্রতিকূল অবস্থার কারণে উৎপাদন ও বিক্রি কমেছে। তবে আপনাদের মতো শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ও সমর্থনে মেঘনা সিমেন্টকে এগিয়ে নিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আগামীতে ব্যবসায়িক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আপনাদের আরো বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবো বলে আশা করি।
এজিএম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কিং ব্যান্ড একটি জনপ্রিয় নাম। এটি সম্ভব হয়েছে, ক্রেতাদের আস্থা ও শেয়ারহোল্ডারদের সহযোগিতার কারণে।
এ সময় তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান-এর উদ্যোগে মংলা শিল্পে ভরে উঠেছে।
সভায় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মোজাম্মেল হক, আমির হোসেন, তৈহিদুল রহমান, নাসিম মাহমুদ, শেখ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
লভ্যাংশ প্রদানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখায় এবং ২০১৪ সালে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির দক্ষ পরিচালনা পর্ষদের প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক এ সাফল্য অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেয়ারবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা মেঘনা সিমেন্ট ২০১৪ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরে কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১০ কোটি ৭ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে, ৪ টাকা ৪৮ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ১০ পয়সা।
এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে মেঘনা সিমেন্টের কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা; যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯২ সালে মংলা শিল্পাঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৫ ঘণ্টা, মে ৩০, ২০১৫
এএসএস/এবি