ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে চারদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না প্রার্থীরা।
ছাত্রদল বলছে, অনাবাসিক ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির বলছে, আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
‘কোনোভাবেই’ যেন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হয়-এমন আবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল। রোববার (৩১ আগস্ট) তারা নির্বাচন কমিশন বরাবর এ আবেদন জমা দেয়।
এরপর সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চারদিনের বন্ধ ঘোষণা করেছে। শুক্র ও শনিবারসহ মোট ছয়দিন। জাতীয় নির্বাচনে যেখানে একদিনের বন্ধ থাকে, সেখানে কীভাবে ডাকসুতে চারদিন বন্ধ থাকে! এখানে স্বাভাবিকভাবেই অনাবাসিক ভোটারদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা বলেছি, এটা যেন কোনোভাবেই না হয়।
এদিকে বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা আমাদের বেশি ভোট দেবে, কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের একটি ভালো যোগাযোগ রয়েছে। ফলে তারা না এলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।
তিনি বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। আমাদের কনসার্ন ছিল পরীক্ষা নিয়ে। কিন্তু ক্লাস বন্ধ করার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছি না। ক্লাস একটি শিথিল মাত্রায় চালানো যেত।
ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিরোধ পর্ষদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন পদে প্রার্থী মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা ৫ তারিখের পর থেকে পরীক্ষাগুলো স্থগিত করার কথা বলেছি। তবে ক্লাস বন্ধ করা হলে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যাবে বা ক্যাম্পাসে আসবে না। সেক্ষেত্রে কেবল নির্বাচনের আগের দিন এবং নির্বাচনের দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ৩০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
এফএইচ/এসআইএস