ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

বিনোদন

কণ্ঠযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিনোদন ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২:৪৭, আগস্ট ৩০, ২০২৫
কণ্ঠযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক এলে গানকেই করেছিলেন মুক্তির হাতিয়ার। অস্ত্র দিয়ে নয়, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন দরাজ কণ্ঠে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তার গান মুক্তিযোদ্ধাদের জুগিয়েছে সাহস আর অনুপ্রেরণা। বলছি প্রয়াত সংগীতশিল্পী আব্দুল জব্বারের কথা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) এই শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের আজকের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী।

১৯৩৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আবদুল জব্বার। ওস্তাদ ওসমান গনি এবং ওস্তাদ লুৎফুল হকের কাছে গানের তালিম নিয়েছেন তিনি।

শিল্পী আব্দুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬২ সালে শুরু করেন চলচ্চিত্র প্লে-ব্যাক। আর ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ওই বছর জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সংগম’র গানে কণ্ঠ দেন।

১৯৬৮ সালে ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায় তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখছো কভু, জীবনের পরাজয়’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ড. মোহাম্মদ মনিরুজামানের লেখা এ গানটির সুর করেছিলেন সত্য সাহা। ১৯৬৮ সালে ‘পিচ ঢালা পথ’ সিনেমাতে রবীন ঘোষের সুরে ‘পিচ ঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’ এবং ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’ সিনেমায় রাজা হোসেন খানের সুরে ‘সুচরিতা যেয়ো নাকো আর কিছুক্ষণ থাকো’ গানে কণ্ঠ দিয়ে নন্দিত হন। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটিও ছিল তুমুল জনপ্রিয়। যা আজও সমান জনপ্রিয়।  

যুদ্ধকালীন সময়ে হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গান গেয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। সেসব গান মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী প্রতিটি বাঙালিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি তাদের প্রেরণা ও মনোবল জুগিয়েছিল।  

আব্দুল জব্বার স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সংস্কৃতি আন্দোলনেও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রেডিও বাংলাদেশের সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।  

স্বাধীনতার পর থেকে দরাজ কণ্ঠের গানের জন্যে আব্দুল জব্বার পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার যার মধ্যে রয়েছে- ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, ১৯৮০ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদক। আরো পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননাসহ ছোট বড় আরো অনেক সম্মাননা।

তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালের মার্চ মাসে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি গানের তালিকায় স্থান পায়।

এনএটি 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।