স্নিগ্ধ মুখটার সঙ্গে দারুণ মানিয়েছে পরনের লাল ব্লাউজ আর সাদা রঙের বৈশাখী শাড়ি। বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুম ঘুম চোখে হাঁটি হাঁটি পা পা করে সে এসেছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়।
মাথায় ফুলের মুকুট আর কপালে মাঝারি রঙের খয়েরি টিপ। গলায় লাল মুক্তো পাথরের মালার সঙ্গে ম্যাচিং করে লাল রঙের ঘটি হাতা ব্লাউজ আর হলুদ শাড়ি পরেছে নিধি। মায়ের কোলে চড়ে নিজের হাতের খেলনা পাখিটা আর মায়ের কপালের টিপটার সঙ্গে তার যেনো খুনসুঁটির শেষ নেই। প্রথমবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় এসে এতো মানুষের ভিড়ে এই এক বছরের বুড়িটা নিজেকে যেনো আবিষ্কার করেছে নতুন আলোয়।
মায়ের সঙ্গে মিল রেখে বড় একটা টিপ পরেছে সাত বছরের অন্তরা-ও। পাজামা-পাঞ্জাবি আর গালে আল্পনা এঁকে বাবার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে ঢোল বাজাচ্ছিল ছয় বছরের শিশির। তার সামনে গিয়ে ছবি তুলতে দাঁড়াতেই আনন্দ যেনো আর ধরে না। লজ্জায় ঝটপট লুকিয়ে পড়ে বাবার পেছনে। লুকিয়ে লুকিয়েই পেছন থেকে বলে, মেলায় এসে আমার খুব ভালো লাগছে।
আর বাবার কাঁধে চড়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার বড় বড় বাঘ, ময়ূর আর হাতিগুলোকে বিস্ময় নিয়ে দেখে সে। নিজের অজান্তেই বলে উঠে, বাবা দেখ, কত্ত বড় হাতি!
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য এক অংশ হিসেবে মিশে রয়েছিল এই ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা। কেউবা প্রথম, আবার কেউবা দু’বার এলো। নিজস্ব সংস্কৃতি ছোট্ট মনে গেঁথে নেওয়াটাই যেনো তাদের আনন্দ। ঢাক-ঢোল আর বাঁশির শব্দে তারা যেনো আনন্দে আত্মহারা। তারা সবাই যেনো একেকটা বিস্ময়। মনে তাদের হাজারো বায়না, হাজারো প্রশ্ন।
কথা হচ্ছিল অরিনের বাবা শাহীন আখতারের সঙ্গে। বললেন, বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জানার জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রার থেকে ভালো উৎসব আর কী হতে পারে! তাইতো সন্তানকে নিয়ে এই মঙ্গল শোভাযাত্রায় আসা।
আমরা আগে গ্রামে যেগুলো পেয়েছি, যেমন পুকুর ভরা মাছ, অবারিত খেলার মাঠ, গ্রামের দস্যিপনা, সেগুলো সব আমাদের সন্তানদের কাছে এখন শুধু গল্প। তবু এই উৎসবের মধ্য দিয়ে হলেও আমরা এসব এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারছি, এটাই অনেক কিছু। এখান থেকেই ওরা শিখবে, যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৪, ২০১৭
এসএনএস