ঢাকা: বাংলাদেশটা হচ্ছে একটা এক্সিডেন্টের (দুর্ঘটনা) ডিপো বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশটা হচ্ছে একটা এক্সিডেন্টের ডিপো। যখন তখন যেখানে সেখানে গাড়ি পড়ে যাচ্ছে। হোন্ডা ভেঙে যাচ্ছে। মানুষের হাত পা ভেঙে যাছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে আমাদের যুব সমাজ কেউ হাত, কেউ পা হারাচ্ছে। কারও ব্রেইন ইনজুরি হচ্ছে, কারও স্পাইনাল কোর্ড ইনজুরি হচ্ছে। এদের চিকিৎসার জন্য আমাদের বড় একটা সুযোগ আসলো। এটাকে আমরা যেন কাজে লাগাতে পারি।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার যেন ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে না যায়। আমাদের সব কিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যত স্পেশালাইজড হাসপাতাল সব ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যত সরকারি হাসপাতাল বেশিরভাগই ঢাকায়। বড় বড় শহরে একটা দুইটা হাসপাতাল আছে, সেটাও কতটা ধুকে ধুকে চলে আপনারা জানেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমরা যেন রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি ডিসেন্ট্রালাইজ করতে পারি। আমরা এক একটা গ্রুপকে ট্রেনিং দিয়ে অন্তত সারাদেশে তিন-চারটা জেলায় এটা সরিয়ে দিতে পারি, যেন অতদূর থেকে রোগীদের এ ঢাকা শহরে আসতে না হয়। এটা যেন ডিসেন্ট্রালাইজড করা যায় সেই উদ্যোগ যেন গ্রহণ করা হয়। এটা ডিসেন্ট্রালাইজড করার দরকার আছে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, এ সেন্টার যেন সাসটেইনেবল হয়। সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে, সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। আমাদের সক্ষমতা আমাদেরকেই অর্জন করতেই হবে। কাজেই সেন্টার যেন নিজের সক্ষমতা অর্জন করে। এটা যেন ডি সেন্ট্রালাইজড করা হয়, সেই কামনা করি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সাইদুর রহমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ইয়েন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম।
এআই দ্বারা পরিচালিত ১০ হাজার স্কয়ার ফিটের এ রোবোটিক রিহেবিলিটেশন সেন্টার চীনের সার্বিক সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়েছে।
আরকেআর/আরআইএস