ঢাকা: ‘চিকেন মাসালার ভক্ত আমি। একটি কিনলে একটি ফ্রি অফার দেখে কিনতে গিয়ে অপমানিত হয়েছি।

সিপি সম্প্রতি (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘এই রমজানে একটি মাসালা চিকেন কিনলেই পাচ্ছেন আরেকটি ফ্রি, সাথে সুইট চিলি সস’ পোস্ট দিয়ে অফার দেয়।
‘৫৫ টাকায় দুইটি মাসালা চিকেন ও একটি সুইট চিলি সস ‘হ্যাপি ইফতার আওয়ার’ চলবে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত’- এমন ঘোষণা দেওয়া হয় অফারে।

‘অফার বিষয় আউটলেট জানে না, কোন আউটলেট জানলেও বলেন, অর্ডার দিয়ে যান অফার আসলে জানাবো’- বলে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দিদারুল বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি হাতিরপুল আউটলেটের নিয়মিত ভোক্তা। অফারের কথা শুনে যাওয়ার পর প্রথমে বলে অফারের কথা জানি না, পরে তিরস্কার করেন কর্মরতরা’।

হাতিরপুল আউটলেটের সেলস ম্যানেজার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) প্রথমে বলেন, ‘এমন অফার সম্পর্কে জানি না’। পরিচয় দেওয়ার পর বলেন, ‘অফার আছে শেষ হয়ে গেছে’।
বিজয়নগর আউটলেটে আসা শাহেদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত তিনদিন বিজয়নগর, শান্তিনগর, মালিবাগ আউটলেটে গিয়েছি। তিনটির মধ্যে বিজয়নগর বলেছে, ‘অর্ডার দেন। আসলে জানাবো’। বাকিগুলো বলেছে, কিছুই জানে না। শুধু অফার নয়, মাসালা চিকেন রমজানে নিম্নমানের করা হচ্ছে’।
বিজয়নগর আউটলেটের সেলস ম্যানেজার অপু বাংলানিউজকে বলেন, ‘অফারের কথা শুনেছি, কিন্তু পাইনি। কাস্টমার এসে অর্ডার দেন, ফিরে যান’।
মোহাম্মদপুর টাউন হলের আউটলেটে কিনতে এসে আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ‘রঙচঙা বিজ্ঞাপন দিয়ে হয়রানি, সবই ভুয়া’।
‘মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডি আউটলেটে একবার বলে, স্টক নেই। আবার বলে, জানি না’। সিপি’র মতো একটি কোম্পানির এমন প্রতারণায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
মোহাম্মদপুর টাউন হল আউটলেটের সেলস ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘অনেক অর্ডার এসেছে, কোনো সাপ্লাই নেই’।

গ্রিন রোড আউটলেটের মেহতাব সমীর সায়েম নামে একজন ভোক্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘সিপি বাজে কোম্পানি। তিনদিন ধরে শুধু এসে ফিরে যাচ্ছি’।
গ্রিন রোড আউটলেটে রেগুলার প্রাইসে মাসালা চিকেন কিনে আজিজ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ‘চারটি মাসালা চিকেন আগের দামে কিনেছি, কোনো অফার দেয়নি’।
‘৫০ টাকার মাসালার সঙ্গে ৫ টাকার সুইট চিলি সসের নামে নিম্নমানের টমেটো কেচাপ। অফার কিছু নেই, এভাবে প্রতারণা করে লাভ কি?’- প্রশ্ন করেন মাহমুদ।
খিলগাঁও তালতলা এলাকার সুজাউদৌলা অভিযোগ করেন, ‘এ আউটলেটে গেলে নানা তথ্য দেয়। আবার বলে, কোম্পানিতে যোগাযোগ করেন’।
সরেজমিনে ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার ভোক্তারা রমজানে সিপি’র এ অফারকে ‘ধান্ধাবাজি’ বলে অভিযোগ তুলে এ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন।
ময়মনসিংহের অনন্যা মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘এ জেলার কোনো আউটলেটে এ অফার নেই। সিপি’র মতো একটি আন্তর্জাতিক চেইন শপ এমন ভুয়া পোস্ট দেয় কেন?’
চট্টগ্রাম থেকে মুহম্মদ আসাদ-উজ-জামান অভিযোগ করেন, ‘কই গতকাল কিনলাম, দিল না। রোজার টাইমে এ রকম ফালতু পোস্ট দিয়ে পাবলিসিটির ধান্ধা বাদ দেন’।
শুধু রমজান না, সারা বছর অফার দিয়ে সিপি প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। ভোক্তা অধিকার অধিদফতর বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।

থাইল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি সিপি (চ্যারণ পকফান্ড) বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৮ সাল থেকে এদেশে ব্যবসা শুরু করে। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় তিন শতাধিক আউটলেট রয়েছে সিপি’র।
বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যবসা করলেও এসব আউটলেটের ভ্যাট নিবন্ধন নেই এবং ভ্যাট দেয় না। সেজন্য মূসক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর অভিযান পরিচালনা করে কাগজপত্র জব্দ করেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১০৫ ঘণ্টা, জুন ১৯, ২০১৬
আরইউ/এএসআর