ফ্রিল্যান্সিং, চিকিৎসা সেবা, ইন্স্যুরেন্স ও বিল পেমেন্টের মতো নাগরিক সেবা দিতে এসেছে দেশের প্রথম ইকোসিস্টেম মার্কেটপ্লেস অ্যাপ। নাগরিক সেবাগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে নতুন এই অ্যাপে।
প্রথম বিটা ভার্সনে থাকবে বিল পেমেন্ট এবং অন্যান্য ইন্টারনেট বিষয়ক সুবিধা। তারপর একে একে যোগ হবে কার্নিভাল লার্নিং—বাংলা ভাষায় অনলাইন কোর্স করে দক্ষতা বাড়ানো, ফ্রিল্যান্সিংয়ের যোগ্যতা তৈরি ও বিবিসি জানালার পার্টনারশিপে ইংরেজি শেখার প্ল্যাটফর্ম; কার্নিভাল কেয়ার—যা অ্যাবোট এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপে স্বাস্থ্যসেবাকে নিয়ে যাবে প্রত্যন্ত গ্রামে, করে তুলবে দ্রুত এবং সহজলভ্য; কার্নিভাল অ্যাস্যিউর—দেশের শীর্ষ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে স্বাস্থ্য ও জীবন বিমাকে ইতোমধ্যে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে; বি-সেলার—ইন্টারনেট হাতে যে কাউকে নতুন আয়ের সুযোগ করে দেবে কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই।
সম্প্রতি গুলশানে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একজন ব্যবহারকারী কার্নিভাল অ্যাপ থেকেই বিশ্বমানের ফাইবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি পেতে পারেন দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা আর আর্থিক সুরক্ষা। কার্নিভাল বিশ্বাস করে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখন কেবল নির্ভরযোগ্য গ্লোবাল কানেক্টিভিটি নয়, তা হয়ে উঠবে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মানুষের জীবনকে বদলে দেওয়ার হাতিয়ার।
দেশের সর্ববৃহৎ ফাইবার ব্রডব্যান্ড ব্র্যান্ড কার্নিভাল ইন্টারনেট নিয়ে এসেছে এই অ্যাপে ইন্টারনেটের পেমেন্ট এবং অন্যান্য সেবার বাইরেও যোগ হতে যাচ্ছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজন মাফিক ক্ষুদ্র বিমা, অনলাইন স্কিল লার্নিং আর ই-কমার্স ভিত্তিক আয়ের সুযোগ।
কার্নিভাল ইন্টারনেটের গ্রুপ সিএমও হাসান মেহেদী জানান, আমাদের তরুণরা বৈশ্বিক ইকোনমিতে প্রথম সারির দেশ হিসেবে অবদান রাখলেও তাদের বেশির ভাগই ইংরেজিতে দুর্বল। সেইসাথে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের বাজার উপযোগী দক্ষতার ঘাটতি আছে। ফলে অনেকেই সুযোগ পেয়েও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। এর সঙ্গে আছে ৪৭ ভাগ শিক্ষিত যুব বেকারত্ব। সব মিলিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠী স্থায়ী আয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতেও সমস্যা অনেক। দেশে প্রতি ১০ হাজার রোগীর বিপরীতে মাত্র সাতজন চিকিৎসক। জরুরি প্রয়োজনে, চিকিৎসার খরচ গুণতে বেশিরভাগ পরিবারকে তাদের সঞ্চয়ের ৭০ ভাগ পর্যন্ত হারাতে হয়। ইন্স্যুরেন্স ব্যবহারের হারও খুবই কম, মোট জিডিপির মাত্র ০.৫ ভাগ।
এসব জায়গাতেই পরিবর্তন আনতে চায় কার্নিভাল ইন্টারনেট। কার্নিভাল আসলে ডটলাইনস গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। ডটলাইনস গ্রুপের অধীনে আরও আছে কার্নিভাল কেয়ার (টেলি-ডাক্তার ও হেলথ সলিউশন), বিসেলার (জিরো-ইনভেস্টমেন্ট রিসেলিং প্ল্যাটফর্ম), কার্নিভাল অ্যাস্যিউর (দেশের প্রথম মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স অ্যাগ্রেগেটর) সহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। এগুলো মিলিয়েই তৈরি হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম, যা প্রযুক্তির সহায়তায় সরাসরি গ্রামীণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।
এমআইএইচ/এমজেএফ