চীনে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চীনা নাগরিকদের সঙ্গে প্রেম করতে বা যৌন সম্পর্ক গড়তে পারবে না। এ ধরনের সম্পর্ক নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদনে এ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য জানানো হয়েছে।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে, তখন এমন মার্কিন নীতি প্রকাশ্যে এলো।
নীতির প্রসঙ্গে ওয়াকিবহাল চারটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এপি জানিয়েছে, জানুয়ারিতে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নস চীন ত্যাগ করার ঘণ্টাখানেক আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চীনে নিযুক্ত মার্কিন কর্মকর্তাদের নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দেওয়া হয়। পাশাপাশি জানানো হয়, যারা ইতোমধ্যে কোনো চীনা নাগরিকের সঙ্গে প্রেম করছেন, তারা সিদ্ধান্ত থেকে ছাড় পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে তাতে কর্তৃপক্ষের সম্মতি না মিললে হয় সম্পর্ক ভাঙতে হবে নতুবা পদ ছাড়তে হবে।
আমেরিকান কূটনীতিকদের অন্য দেশে অবস্থানের সময়ে সেখানের নাগরিকদের সঙ্গে প্রেম বা সম্পর্ক গড়ার নজির রয়েছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ বিয়ের বন্ধনেও আবদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
যদিও আমেরিকার কিছু কিছু সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রেমের ক্ষেত্রে এই ধরনের কড়াকড়ি আগেও ছিল। শীতল যুদ্ধের পর থেকে জনসমক্ষে অপ্রকাশিত একটি ‘ভ্রাতৃত্বহীনতা’ নীতি ছিল এটি। তবে চীনে কর্মরত সব কর্মকর্তার জন্য এই ধরনের নীতি সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি।
গত বছর থেকেই এই বিষয়ে কঠোর উদ্যোগ নিতে শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরেও এই ধরনের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেটি এতটা কড়া ছিল না। তখন বলা হয়েছিল, দূতাবাস এবং অন্য কূটনৈতিক দফতরগুলোতে কোনো চীনা কর্মীর সঙ্গে ‘রোমান্টিক এবং যৌন সম্পর্ক’ স্থাপন করতে পারবেন না মার্কিন কর্মকর্তারা। নীতিমালায় ‘রোমান্টিক বা যৌন সম্পর্ক’ শব্দটি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা এপি সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি।
তবে এবার সেই নিয়মে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে বসার কয়েকদিন আগে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বার্নস এ চীনা নাগরিকের সঙ্গে এই ধরনের সম্পর্কের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের দফতর থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্টে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি হিসেবে চীনকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০২৫
এসএএইচ