নয়াদিল্লি: নতুন করে অশান্তির আবহে শনিবার থেকে দার্জিলিংয়ে শুরু হলো অনির্দিষ্টকালের হরতাল।
এরই মধ্যে গোর্খাল্যান্ড আদায়ে মোর্চার ছয় সদস্য দিল্লি যাচ্ছেন।
হরতালের আগের দিন দার্জিলিংয়ের শাকসবজি, মুদির দোকান আর ব্যাঙ্কের এটিএম বুথে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দুপুরের মধ্যেই সব এটিএম বুথে টাকা শেষ হয়ে যায়। একই অবস্থা তেলের পাম্পগুলিতেও। ফলে হরতাল শুরুর আগেই চূড়ান্ত হয়রানির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
গোটা পাহাড় এখন পর্যটকহীন। মোর্চার পক্ষ থেকে প্রতিটি হোটেল মালিককে জানানো হয়েছে, পর্যটকরা যেন হোটেল খালি করে দেন। স্কুলগুলিতেও শুধু বিদেশি শিক্ষার্থীরাই রয়ে গেছেন।
হরতালের চেহারা কি হতে চলেছে, তার কিছুটা আঁচ আগের দিনই পাওয়া গেছে। তাকদায় বনবাংলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পোখরাবাড়িতে পুলিশের ক্যাম্পে আগুন লাগানো হয়েছে। এ ঘটনায় মোর্চার এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে তাদের কর্মীকে ফাঁসানো হয়েছে। এরই মধ্যে দার্জিলিংয়ের ফুপচিংরিতে সরোজ তামাং নামে একজনের মরদের উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, এর সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। যদিও মোর্চার দাবি, নিহত ব্যক্তি তাদের কর্মী।
মোর্চা নেতা রোশন গিরি, হরকাবাহাদূর ছেত্রীদের দিল্লিযাত্রার সঙ্গী হলেন দীপা দাশমুন্সি। বাগডোগরা থেকে একই বিমানে তারা দিল্লি গেলেন। বিমানবন্দরে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, ‘গোর্খাল্যান্ড না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। তেলেঙ্গানা থেকেও আমাদের দাবি পুরনো। ’
দিল্লিতে মোর্চা সদস্যরা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমসহ একাধিক কংগ্রেস ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন। অন্যদিকে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় মহাসচিব মুকুল রায় দলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর মুকুলবাবু বলেন, ‘পাহাড় আমাদের হৃদয়ে রয়েছে। আমরা বাংলা ভাগ হতে দেব না। ’ এ ব্যাপারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘উন্নয়ন নিয়ে আমরা আলোচনায় রাজি। কিন্তু গোর্খাল্যান্ড হতে দেব না। ’
বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, আগস্ট ৩, ২০১৩
এসপি/সম্পাদনা: কামরুল হাসান কাইউম, নিউজরুম এডিটর-eic@banglanews24.com