ঢাকা: মালয়েশিয়ার নিম্নমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এফটিএমএস কলেজের ভর্তি বিভাগের প্রধান মালয় নাগরিক আজহারি বিন ওমর বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিগত দিনের মতো আবারো বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহের অভিপ্রায়ে তার এই সফর।
শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিদ্ধেশ্বরীর এইচটি গ্লোবাল লিমিটেডের হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারণা চালান তিনি। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বাংলানিউজকে বলেন, কোনো ধরনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা ছাড়াই কলেজে ভর্তির ফর্ম পূরণ করিয়েছেন আজহারি। পরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং এই অফার লেটার নিয়ে কনসালট্যান্সির মাধ্যমে ভিসার আবেদনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এফটিএমএস কলেজে ভর্তি হওয়া ভুক্তভোগী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, তাদের প্রতিজনের জন্য টাকার ভাগ পান আজহারি।
ইউনিভার্সিটি মালায়ার প্রাক্তণ ছাত্র আজহারি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। ভর্তি বিভাগের প্রধানের দ্বায়িত্ব ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের মেলায় বেশ আন্তরিক থাকলেও মালয়েশিয়ায় প্রতারণার শিকার হয়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আজহারির চেহারা পাল্টে যায়। তখন সহজে আজহারির সঙ্গে দেখা করাও যায় না।
ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম জবের অফার দিয়ে ভর্তি করানো, শিক্ষার্থীদের পাসপোর্ট জিম্মি করাসহ প্রচুর অভিযোগ রয়েছে মালয়েশিয়ার এ কলেজটির বিরুদ্ধে।
প্রতি বছরই আজহারি আসেন শিক্ষার্থীদের ভর্তির টার্গেট নিয়ে। এর আগে ২০১৩ সালের ১৯ থেকে ২১ আগস্ট বাংলাদেশ মালয়েশিয়া স্টাডি সেন্টারের আমন্ত্রণে ঢাকায় শিক্ষার্থী ভর্তি করান তিনি। ২২ অগস্ট প্রচারণা চালান উইংস কনসালট্যান্ট লিমিটেডের হয়ে।
২০১৩ সালে আজহারির বিনয়ী ব্যবহারে এফটিএমএস কলেজে ভর্তি হওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি’র ভাগ ছাড়াও আমন্ত্রণ দেয়া কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের টাকা দেয় আজহারিকে।
তেজগাঁও কলেজের সাবেক ওই ছাত্র বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই আজহারি থেকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ এফটিএমএস কলেজ এখানে মূলত আদম ব্যবসাই করে।
বাংলাদেশ সময়: ০৮১৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৬, ২০১৪
** মালয়েশিয়ার এফটিএমএস কলেজের ফাঁদে বাংলাদেশিরা