ঢাকা, শনিবার, ১৫ চৈত্র ১৪৩১, ২৯ মার্চ ২০২৫, ২৮ রমজান ১৪৪৬

জাতীয়

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে: ভোগান্তির শঙ্কা নেই ঘরমুখো যাত্রীদের

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১১ ঘণ্টা, মার্চ ২৬, ২০২৫
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে: ভোগান্তির শঙ্কা নেই ঘরমুখো যাত্রীদের ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা চৌরাস্তা। মাঝে প্রমত্তা পদ্মায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মাসেতু।

পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে।  

পদ্মাসেতু এবং ৬ লেনের হাইওয়ে থাকায় পুরো পথের কোথাও যানজটের ভোগান্তির আশঙ্কা নেই। ফলে আসন্ন ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীদের ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটারে কোনো ভোগান্তির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে হাইওয়ের মাদারীপুর অংশ ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের যাত্রীচাপ না বাড়লেও মহাসড়কে বাড়তে শুরু করেছে পরিবহনের ব্যস্ততা। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী যানবাহন সমানতালেই চলছে। তবে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কম রয়েছে বাসে। ঈদ সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলগামী পরিবহনে যাত্রীদের কিছুটা ভিড় দেখা গেছে। গাড়িতে নারী ও শিশু যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বেশি। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই পরিবার-পরিজনদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।  

মহাসড়কের পাঁচ্চরে ঢাকা থেকে আসা একাধিক যাত্রী জানান, এখনও গাড়িতে 'ঈদের ভিড়' শুরু হয়নি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে যাত্রী চাপ। ঢাকা থেকে শিবচরে আসতে লোকাল পরিবহনে বরাবরের মতোই ভোগান্তি রয়েছে। পথে পথে যাত্রী ওঠা-নামা করানোয় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য পদ্মাসেতু হয়ে বাড়ি ফেরার অভিজ্ঞতা বেশ মজার! ঢাকা থেকে বের হতে পারলে পথে আর যানজটের কোনো ভয় নেই।

যাত্রীরা জানান, পদ্মাসেতু চালু হবার পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব যেন কমে গেছে! দূর হয়েছে নৌপথের নানা ভোগান্তি। ঈদ মৌসুমে রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ঘরমুখো মানুষের ঘরে ফেরা ছিল যেন এক প্রকারের চ্যালেঞ্জ। পদ্মাসেতু এবং ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দূর করেছে ঘরমুখো মানুষের সেই অসহনীয় ভোগান্তি। এখন বাড়ি ফিরতে খুব একটা ভাবতে হয় না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের। কাজ সেরে দূরপাল্লার কোনো এক পরিবহনে চেপে বসলেই হয়। নিমিষেই পৌঁছা যায় বাড়ি!'

এদিকে ঈদ যাত্রায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক পথে কোনো ভোগান্তির শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন পরিবহন চালকেরা। সড়ক ভালো থাকায় এই পথে তেমন কোনো যানজটেরও আশঙ্কা নেই। তবে ঈদের সময় পরিবহনের বাড়তি চাপ থাকায় পদ্মাসেতুতে উঠতে টোলপ্লাজায় কিছুটা ভিড় হয়ে থাকে। সেতু পার হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়কের কোথাও যানজটের সম্ভবনা নেই বলে জানা গেছে।

মাদারীপুরের চন্দ্রা পরিবহনের চালক মিজানুর রহমান বেপারী বলেন, এখন পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ তৈরি হয়নি। ভাড়াও স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদের তিনদিন আগে থেকে ভিড় বাড়বে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো সমস্যা নেই। তবে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরইতলাসহ কয়েকটি পয়েন্টে যানজটের শঙ্কা রয়েছে।

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম বলেন, ঈদে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক মহাসড়কে থাকছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। ঈদে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের একাধিক টহল টিম থাকছে মহাসড়কে।

বাংলাদেশ সময়: ১০০৮ ঘণ্টা, মার্চ ২৬, ২০২৫
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।