রাজশাহী: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সারাদিন ব্যবসা-বাণিজ্য শেষ করে দোকানমালিকরা তাদের নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় চলে যান। পরে রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে আব্দুল লতিফের মার্কেটে সবাই আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হন। পরে খবর পেয়ে মোহনপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
কিন্তু ততক্ষণে আগুনে প্রায় ছয় জন ব্যবসায়ীর মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মালামাল পুড়ে গেছে মোহনপুর উপজেলার ইউপির সরমইল গ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলামের।
সিরাজুল ইসলামের ছেলে রনি জানান, পুড়ে যাওয়া ওই মার্কেটে তাদের বড় একটা গোডাউন ঘর ভাড়া নেওয়া ছিল। সেই ঘরে তারা বিভিন্ন ধরনের মুদি দোকানের মালামাল রেখেছিলেন। এরমধ্যে কোমলপানীয়, চাল, সেমাই, চিপস, কয়েল, ভূষি, লবণ, প্লেট-গ্লাস, চিনি, টিস্যু, বিস্কুট, বেসন, আটা, হারপিক, সিগারেট, মুড়ি, কেকসহ অন্যান্য খুচরা পণ্য ছিল। আগুনে তাদের সবগুলো মালামালই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা হবে।
এ ছাড়া অন্য ব্যবসায়ীদেরও অনেক টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সবাই পথে বসে গেছেন। ব্যবসায়িক কাজে ইসলামী ব্যাংকে তাদের একটি সিসি লোন এবং সিসিডিবি এনজিওতেও ঋণ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা কীভাবে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
আগুনে পোড়া মার্কেটের মালিক আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল আলীম জানান, তাদের পুরো মার্কেটটি বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি করা। আগুনে তাদের পুরো মার্কেট পুড়ে গেছে। দোকান ও গোডাউন ঘরসহ মোট ছয় জন ব্যবসায়ীর ভাড়া ঘর ছিল সেই মার্কেটে। তাদের দোকানঘরগুলোতে অনেক টাকার মালামালও ছিল। আগুনে সবগুলো ঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন।
জানতে চাইলে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডার রেজাউল মণ্ডল জানান, মোহনপুর উপজেলার ৩নং রায়ঘাটি ইউপির অন্তর্গত কামারপাড়া বাজারে শুক্রবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কামারপাড়া বাজারে আগুনের খবর পেয়ে তাদের ফায়ার স্টেশন থেকে দুইটি ইউনিট শুক্রবার দিনগত রাত ১২টা ১২ মিনিটে বের হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর তারা প্রায় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। মশার কয়েলের আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
আগুনে বাজারের ৮টি ফাঁকা আমের আড়ত (টিনশেড), মুদি দোকান ঘর দুটি (টিনশেড), পাকা দোকান ঘর একটি, পাকা বসতঘর একটি এবং তিনটি টিনশেড বসতঘর পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়-ক্ষতির আনুমাণিক পরিমাণ ৪ লাখ টাকা। এছাড়া আগুনের হাত থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মোহনপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, আগুনে ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে তদন্ত প্রয়োজন। কয়েক দিন সময় হাতে নিয়ে তদন্ত করা ছাড়া এই ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। ঘটনার পর যাচাই-বাছাই স্বাপক্ষে প্রাথমিকভাবে তারা ক্ষতির পরিমাণ ৪ লাখ টাকা নিরূপণ করেছেন বলে জানান।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়শা সিদ্দিকা বলেন, কামারপড়া বাজার এলাকায় আগুনের ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। সেখানে আগুন লেগে অনেক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। অগ্নিকাণ্ড রোধে তিনি সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৪, ২০২৫
এসএস/এমজেএফ