ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

প্রতিদিন আমাদের জান হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে: সামিনা লুৎফা

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭:৫২, আগস্ট ৩১, ২০২৫
প্রতিদিন আমাদের জান হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে: সামিনা লুৎফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশ

কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলছে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেছেন, এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর চাইতে আর কোনো জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা দেখিনি।

প্রতিদিন আমাদের জান হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে এসব কথা বলেন অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। এই সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

সমাবেশে বক্তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সভা করতে গিয়ে হামলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা বিধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

সামিনা লুৎফা বলেন, পুরো বছরজুড়ে যখন শ্রমিক, তথ্য আপা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তখন কিন্তু কাউকে আমরা কথা বলতে দেখিনি। এখন যেহেতু সরকারের উপদেষ্টারা নিন্দা জানাচ্ছেন, যেখানে তাদের দায় হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা। সেটা করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় তাদের নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলছে। এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর চাইতে আর কোনো জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা দেখিনি। প্রতিদিন আমাদের জান হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।

সামিনা লুৎফা বলেন, এমন নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেতরে আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত হয়ে উঠেছি। অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে মানুষের ক্ষোভ নানাভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এখন কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখন শান্তির সময়, নির্মাণের সময়।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, চব্বিশ ছিল কথা বলার স্বাধীনতা। কথা বলতে গিয়ে এখন মানুষ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। হঠাৎ করে ৫ আগস্টের পর নিজেদের ক্ষমতায়িত মনে করছে একটি গোষ্ঠী, দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মতপ্রকাশের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই সংকোচন দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্যই বলি দেশের ঘাড়ে আসলে ভূত চেপেছে। এই ভুত আমাদের সরাতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি নুরুল হক নুরের ওপর যেভাবে পুলিশ এবং সেনা সদস্যরা হামলা করেছে, বুয়েটের ছাত্রদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই চরিত্র আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ওপর নিপীড়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের নামে অহেতুক মামলা, হয়রানি, রুমে তালা দেওয়া, চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। আমি বলব, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্জনকে যেভাবে নিগৃহীত করা হয়েছে, আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রশাসনকে শিক্ষকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা। সভায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের কাজী মারুফুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মার্জিয়া রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।