রাজধানীর গাবতলী হাটে উজ্জ্বলের মতো আরও অনেক বেপারিই তীব্র শীতের কারণে পশু নিয়ে এভাবে দুঃশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়েছেন। রোববার হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে হাটে গিয়ে আক্ষেপ করতে দেখা গেলো কয়েকজনকে।
বাংলানিউজের কথা হচ্ছিল উজ্জ্বলের সঙ্গে। তার দাবি, এবারের শীতে তার যে পাঁচটি ছাগল মারা গেছে, সেগুলোর মূল্য প্রায় ৫০ হাজার। তার ভয় বাকি ছাগলগুলো নিয়ে।
উজ্জ্বল বলেন, ‘আজকেই একডি ছাগল মইরা গ্যাছে। দুই দিন আগে আরও চারডি মইরে গ্যাছে। শীতে আমার আম-ছালা সব শ্যাষ। শীতের কারণে ছাগল খায় না, মুখে লালা ঝরে। শুধু চর্বি নয়, ছাগলের রক্তও হিম হইয়া গ্যাছে। ’
সারাদেশের পাশাপাশি ঢাকায়ও তীব্র শীতের দাপট দেখা যাচ্ছে গত বেশ কিছুদিন ধরে। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি শীতজনিত রোগও বাড়ছে। রোগ চেপে বসছে গরু-ছাগল-মহিষসহ গবাদি পশুর ওপরও।
এই শীতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখে সকালে বিশাল এক মহিষও জবাই করতে হয়েছে গাবতলী পশুর হাটে। ওই মহিষের বেপারি জাকির হোসেন বলছেন, শনিবার থেকেই তার মহিষগুলো শীতজনিত রোগে ভুগছে। খাওয়াও বাদ দিয়েছে। শীতে গলা ফুলে গেছে কিছু কিছু মহিষের। নাক-মুখ দিয়ে লালা ঝরে। সকালে পশুর হাটে ঢুকে ঘুরতে ঘুরতে পড়ে যায় ওই মহিষটা। তাৎক্ষণিক সবার পরামর্শে বিশাল মহিষটা জবাই দিতে হয়।
জাকির আক্ষেপ করে বলেন, ‘১৮০ কেজি মহিষটা ৯০-৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। এখন ৩০০ টাকা দরে মাংস বিক্রি করে ৫৪ হাজার টাকাও উঠবে না। ’
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাটটি ঘুরে বেপারিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তীব্র শীতে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০টা ছাগল মারা গেছে। শীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে দৈনিক দু’একটা গরু-মহিষও জবাই দিতে হচ্ছে।
বেপারিরা বলছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে শীত থেকে বাঁচাতে পশুকে পাটের ছালা ও কম্বল দিয়ে আবৃত করা হচ্ছে। তবু কুলাচ্ছে না।
পাঁচটা গরু কিনে বিপাকে পড়া শফিকুল বেপারি বাংলানিউজকে বলছিলেন, ‘মনে হচ্ছে জন্মের শীত পড়া পড়ছে। মানুষ না, গরুও মনে হয় বাঁচবেনানে। শীতে নিজের গায়ের কম্বল গরুক পরাইছি। ’
বেপারিরা জানান, ঘন কুয়াশায় স্বাভাবিক হচ্ছে না মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল। ফলে ঘাটে এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত পশুবোঝাই ট্রাকগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় ট্রাকের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে পশু। এ কারণে এসব পশু হাটে এসেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মতে, তীব্র শীতে পশুর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কোল্ড স্ট্রেসের কারণে পশু মারাও যেতে পারে। ফলে ঘন কুয়াশায় পশু বাইরে না বের করাই ভালো। একইসঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে শীতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়াতে হবে।
এ বিষয়ে আলাপ করলে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিফ ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল হালিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘শীতে মানুষের মতো পশু-পাখিরও নানা সমস্যা হয়। বিশেষ করে পশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগে। এসময় অতিরিক্ত খাবার দেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মধ্যে রাখা উচিত, যতক্ষণ না রোদ ওঠে। এছাড়া শীতে পশুর নানা রোগের প্রকোপ বাড়ে। এমন সমস্যা হলে নিকটস্থ পশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ’
বাংলাদেশ সময়: ০৮২১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০১৮
এমআইএস/এইচএ/