ঢাকা, শনিবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩১, ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

লোভের শিকার মৎস্য সম্পদ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭২৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮
লোভের শিকার মৎস্য সম্পদ জাটকা সংরক্ষণের ঢাকঢোলের মধ্যেও চলছে জাটকা বিক্রি। ছবি- বাংলানিউজ

ইলিশ মাছ এখন খুবই ছোট আকারের। বেড়ে ওঠার, নদীতে সাঁতার কাটার কথা মাছগুলোর। ইলিশ মাছের বৃদ্ধির স্বার্থেই মৌসুমের এ সময়টায় ইলিশের পোনা বা জাটকা নিধন নিষিদ্ধ।

অথচ আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজারে জাটকার বিরাট সরবরাহ দেখে আঁতকে উঠতে হলো। আশ্চর্যের বিষয়, আজ থেকে ২ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত সাতদিন জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ বলে জানতে পেরেছি।

কিন্তু কে শোনে কার কথা! অবাধে জাটকা নিধন চলছেই।

ইলিশ সাধরণত পাওয়া যায় পদ্মা ও মেঘনায়। সেখান থেকে জাটকা ধরে সারা দেশে চালান করা হচ্ছে। পদ্মা ও মেঘনা থেকে এক দেড়শ মাইল দূরের বাজারে মাছগুলোকে বিপণন করার ক্ষেত্রেও অবৈধ শিকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়েনি।   আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন কিছু দেখছে বলেও মনে হয় না।

প্রকাশ্য বাজারে সহজেই পাওয়া যায় কারেন্ট জালের মতো বিপজ্জনক সামগ্রী, যে জালে সদ্য ডিম-ফোটা পোনামাছও আটকে পড়ে। কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ বলে শুনেছি। কিন্তু হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে 'নিষিদ্ধ' কারেন্ট জাল।

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া। বিষয়টি নিয়ে কথা বলি একজন বিশেষজ্ঞের সাথে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া।

মৎস সংরক্ষণ, বিশেষত ডিম্ববতী মাছ রক্ষায় কাজ করেন তিনি। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস প্রজননক্ষেত্র উত্তর চট্টগ্রামের হালদা নদীকে দুষণ ও মৎসদস্যুদের কবল থেকে বাঁচাতে আন্দোলন করছেন তিনি।

অধ্যাপক কিবরিয়া বলেন, কতিপয় অসাধু মানুষের লোভের শিকার বাংলাদেশের মৎস সম্পদ। জাটকা নিধন তারই অংশ। ছোট ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন করলে যে মাছের বংশ লোপ পাবে, সেকথাও ভাবে না স্বার্থান্ধরা। এইসব কাজ প্রকৃত মৎসজীবীরা করে না। করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। কারণ প্রকৃত মৎসজীবীরা মাছের ক্ষতি করতে চায় না। তারা চায় মাছ বাঁচুক। মাছ বাঁচলেই তাদের পেশা ও জীবিকা টিকে থাকবে।

বাংলানিউজকে অধ্যাপক কিবরিয়া বলেন, জাটকা নিধনের মতোই অপরিণত মাছ শিকারের ঘটনা দেশের অন্যান্য নদী, খাল, বিল, হাওর, বাওরেও অবাধে চলছে। আমরা এ রকম তথ্য সরেজমিনে গিয়ে জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, দিনের বেলা কিছুটা সাবধান হলেও গভীর রাতে শুরু হয় অবৈধ মৎস্য নিধনের নারকীয় উৎসব। ক'দিন আগেও রাত ১.৫৩ মিনিটে খবর পেলাম, হালদা নদীর কাগতিয়া-আজিমের ঘাট এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে মাছ নিধন হচ্ছে। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছে কিন্তু এত রাতে কেউ এগিয়ে আসে নি। ফলে প্রচুর মাছ ধরে অবৈধ মাছশিকারিরা নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারছে।

শুধু হালদার ডিম্মবতী মাছই নয়, অবাধে চলছে জাটকা ও নানা বিরল প্রজাতির মাছ শিকার। ডিমওয়ালা মা মাছ ও অপরিণত মাছ মেরে মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধি ব্যাহত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মৎস সম্পদকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে হুমকির মুখে।

লোভের শিকার মৎস্য সম্পদকে রক্ষার দায়িত্ব কার? এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কি? সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হয়েই এই সঙ্কটের মোকাবেলা করতে হবে। নইলে দিনেদিনে দেশের মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির হুমকির মুখে চলে যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮

এমপি/ জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।