ভাসানচর (নোয়াখালী) থেকে: দেশের আনাচে দেখা যায় কবিরাজ। গ্রাম এলাকার হাটবাজার তো বটেই শহরেও দেখা মেলে কবিরাজদের।
৯ ফেব্রুয়ারি ভাসানচর এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাজারের এক নম্বর রোডে দেখা যায় সেই কবিরাজ চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফুটপাতে নানা ওষুধ নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন এই কবিরাজ। তিনিই এই এলাকার একমাত্র কবিরাজ বলে দাবি করলেন। এই কবিরাজের নাম মুজিবুল্লাহ।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ জানালেন তার বয়স ২৭। তিনি কুতুপালংয়েও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন। সেখানে ছিলেন ১২ বছর। তবে দ্বিতীয় দফায় ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছেন। কুতুপালং ক্যাম্পে যেমন রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করতেন, এখানেও তেমনভাবেই চিকিৎসা করে থাকেন।
কী কী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কবিরাজ মুজিবুল্লাহ বলেন, আমি পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দাদ, এলার্জি, কান পাকা, পাইলস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। প্রতিদিন ৭/৮ জন রোগী আসে। এতে প্রতিদিন আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
কবিরাজি ওষুধ কোথায় পান জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ কবিরাজ জানান, কুতুপালং থেকে আসার সময় কবিরাজি ওষুধ নিয়ে এসেছি। আর মূলত গাছ-গাছরা থেকেই আমি ওষুধ তৈরি করে থাকি।
তবে কিছু ওষুধ ফুরিয়ে গেলে কীভাবে এই দ্বীপে সেগুলো সংগ্রহ করবেন, সেটা নিয়ে তার কবিরাজ মুজিবুল্লাহর দুশ্চিন্তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কীভাবে কবিরাজি শিখলেন জানতে চাইলে মুজিবুল্লাহ বলেন, আমার দাদা সিরাজুল হক ছিলেন কবিরাজ। তার কাছ থেকেই কবিরাজি শিখেছি। কিছু বই পত্রিকা পড়েও কবিরাজি শিখেছেন। তবে এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই বলেও জানান তিনি।
মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায়ও ওষুধ দিয়ে থাকেন কবিরাজ মুজিবুল্লাহ। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই একজন রোগীর দেখা মিললো। এই রোগীর নাম মোহাম্মদ জুবায়ের। রোগী জানালেন তার পায়ে দাদ হয়েছে। কবিরাজকে সেই রোগীকে ওষুধ দিলেন। ওষুধের দাম রাখলেন ৪০ টাকা।
মোহাম্মদ জুবায়ের এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি আজ প্রথম এই কবিরাজের কাছে এসেছেন। অনেক রোগী কবিরাজের চিকিৎসায় ভালো হয়েছেন বলে জানতে পেরে তিনিও চিকিৎসা নিতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি হাসপাতাল ও চারটি কমিউনিটি হাসপাতাল রয়েছে। তারপরেও অনেকেই নিচ্ছেন মুজিবুল্লাহর কবিরাজি চিকিৎসা।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১
টিআর/এমজেএফ