গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, তার দলের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার দায় পুরো সেনাবাহিনীর নয়। সেনাবাহিনীর একটি অংশ অতি উৎসাহী হয়ে এ হামলা করেছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী বিপ্লবীরা কতটা নিরাপদ’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর দায় আসবে না। আমরা চাই না, এই দুই বাহিনীকে মানুষ ভুল বুঝুক। কারণ, তাদের নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানুষের যে আশার আলো ছিল, তা মোমবাতির আলোর ন্যায় নিভে গেছে। তবুও আমরা আবার আলো জ্বালাতে চাই। আমরা নতুন করে আবারও লড়াই শুরু করতে চাই। সেই লড়াই হবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা ও গণ অধিকার পরিষদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, আমরা দেখতে চাই, সরকার আমাদের জন্য কী করে।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতার ওপর এমন হামলা, কার্যালয়ে ঢুকে নেতাকর্মীদের আহত করা ছোট কোনো ঘটনা নয়। এই ঘটনার সমাধান ও প্রতিকার না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। গণ অধিকার পরিষদ সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিষিদ্ধের দাবি তিনি বলেন, এই দেশে ফ্যাসিবাদ ও তার দোসরদের রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ইনক্লুসিভ নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগ ও তার দোসর জাতীয় পার্টির মাধ্যমে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। যদি তারা ন্যূনতম সুযোগ পায় তবে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনবে।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সম্প্রতি নুরুল হকসহ নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার পর সেই আকাঙ্ক্ষা মলিন হয়ে গেছে। আগামী দিনে এই হামলা পল্টন কিংবা বাংলামোটরেও হতে পারে।
আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসানসহ আরও অনেকে।
জেডএ/আরএইচ