ড্রয়িংরুমে একটাও ছবি নেই। নান্দনিক ফাঁকা দেয়াল, এলো আকৃতিতে বসানো দু’টো সোফা, গান শোনার জন্য মাঝারি আকৃতির সাউন্ডবক্স আর ডিভিডি।


এখানে ন্যান্সির ফ্ল্যাট, একটা সুরেলা কোকিল থাকে এখানে, এই রাস্তা দিয়ে ন্যান্সি হেঁটে যান- আশেপাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের ভেতরে এমন উত্তেজনা আছে। যদিও ন্যান্সি দোহাই দিচ্ছেন নাগরিক যান্ত্রিকতার। লাজুক ভঙ্গিতে তিনি বলছেন, ‘অতোটা নেই আসলে। সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত। আশপাশে তাকানোর এতো সময় কোথায়!’

কিন্তু গলির মাথার দোকানটাতে ঠিকই অবেলায় বাজে ‘এতদিন কোথায় ছিলে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ’ অথবা আরও মন কেমন করা অনেক গান। একদল ছেলে বিকেলবেলায় হুল্লোড় করতে করতে চলে যায় বাড়ির সামনে দিয়ে। ওদের হাতে থাকে স্মার্টফোন, বাজে ন্যান্সির গান।

ন্যান্সির দুই মেয়ে রোদেলা ও নায়লা মাঝে মধ্যে খেলতে নামে নিচে। বাড়ির পাশে একটা ছোট ফাঁকা জায়গা আছে, ওখানেই বিকেলবেলা বাচ্চারা ছোটাছুটি খেলে। এসব ক্ষেত্রে বাচ্চারা খুব ‘দলবদ্ধ’ নীতি মেনে চলে। দলে যারা থাকে, প্রতিদিন যারা একইসঙ্গে খেলে- তাদের বাইরে আগন্তুককে কোনোভাবেই পাত্তা-


অথবা ময়মনসিংহের ঘটনাই বলা হোক। ন্যান্সি যখন সেখানে যান, আশেপাশের লোকরা কীভাবে যেন ঠিকই খবর পেয়ে যায়। ফলে বাড়িতে ভিড় জমে।


এমন মাকে বড় মেয়ে রোদেলা খুব ভয় পায়- ন্যান্সিই জানালেন এ কথা। হয়তো সেটা ভয় নয় ঠিক, শ্রদ্ধা। অ্যালবামে, টিভিতে, পত্রিকার পাতায় মায়ের মুখ।


ন্যান্সি, স্বামী, রোদেলা-নায়লা- পুরো পরিবারজুড়ে হাসিখুশি আবহ গত কয়েকদিন ধরে। ন্যান্সির নতুন অ্যালবাম বেরিয়েছে। একক অ্যালবাম। নাম ‘দুষ্টু ছেলে’। এর গানগুলো করার সময় তিনি যেন পুরনো যা কিছু, ভুলে গিয়ে নিজের ভেতরেই নতুন ন্যান্সি সৃষ্টির চেষ্টায় ছিলেন সর্বক্ষণ! সুরে হালকা রক ধাঁচ, সংগীতেও। সংগীতার ব্যানারে প্রকাশিত ‘দুষ্টু ছেলে’ এখন বাজারে।

বাংলাদেশ সময় : ১৭২৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২১, ২০১৫