চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ১০৯ জন। তাদের মধ্যে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন।
রোববার (৩১ আগস্ট) ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
এদিকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরের বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাঁর সহপাঠী আদনান শরীফ আসিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে জানান, রক্তক্ষরণের ফলে নাইমুলের সারা শরীর সাদা হয়ে গেছে। জুলাইয়ের চেয়ে নির্মম অবস্থা। জুলাইয়ে ইটপাটকেল খাইছিলাম কিন্তু এখন সরাসরি রমদা দিয়ে কুপানো হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে চিকিৎসা পসিবল না। দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে হচ্ছে। দোয়া কামনা করছি
এছাড়া নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে ২৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০৯ জন। এর মধ্যে রোববার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে ভোরে আরও ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন।
তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল হাসপাতালে একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২৪ জন।
এর আগে ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, রাতের ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে তারা ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তরা আবাসিক এলাকায় আন্দোলনের জেরে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় স্থানীয়দের নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে আহত হন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ আরও কয়েকজন।
এমআই/পিডি/টিসি