সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (বিন) লক না করে, অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো.আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, অহেতুক বিন লক করে সৎ ও কমপ্লায়েন্ট আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে জুলাই-২০২৫ মাসের রাজস্ব আহরণ অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলে না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি কাস্টমস হাউস এবং গোয়েন্দা দপ্তরকে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিন কী কারণে লক করা হয়েছে এবং গৃহিত প্রতিটি কার্যক্রম হতে কী পরিমাণ অতিরিক্ত কর আদায় হয়েছে, প্রতিটি মাসিক রাজস্ব সভায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তিনি বলেন, যারা সৎভাবে নিয়ম-কানুন মেনে ভ্যাট প্রদান করেন তাদের ওপর অহেতুক বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে যারা মোটেও ভ্যাট পরিশোধ করেন না তাদের ভ্যাট নেটে আনা এবং যারা ভ্যাট ফাঁকি দেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ভ্যাট আদায় বাড়াতে হবে। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে আইন অনুযায়ী যাদের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক তাদের সবার ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো এবং অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের ন্যায় আগামী এক মাসের মধ্যে বন্ডের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন বাধ্যতামূলক করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বন্ডের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি সেবার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে পরামর্শ দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য নির্দেশ দেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আনা মালামাল বাজারে বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আমাদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে রাজস্ব বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
বন্ডের অপব্যবহার রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের কাছে এনবিআর চেয়ারম্যান জানতে চান এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেন। বন্ড অডিট কার্যক্রম থেকে অর্জিত ফলাফল সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিটি রাজস্ব সভায় উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বকেয়া কর আদায় বাড়ানোর জন্য বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে সম্প্রতি প্রণীত অডিট নির্দেশনা অনুসরণ করে সব অডিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে কর দাবি সৃষ্টি এবং কর আদায় করার জন্য সভা করতে হবে।
টিআইএন থাকার পর যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সবাইকে রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ করে, তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করে, আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করে তা আদায় করার জন্য আয়কর আইন অনুযায়ী সব কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের সব কমিশনার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সব সদস্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
জেডএ/জেএইচ