ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই হাজার ৪৯ ভোটকেন্দ্র ব্যবহার অনুপযোগী। মেরামতে ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা প্রয়োজন।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেনের তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৪৯০টি। ওই ভোটকেন্দ্রগুলো মেরামতের জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার পরিমাণ ৩৩৭৮.৭৮ লাখ টাকা এবং যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন সে রূপ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৫৯টি। এসব সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার পরিমাণ ৭৬৪৮.৪৯০ লাখ টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা প্রয়োজন।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন সম্প্রতি এক চিঠিতে ওই পরিমাণ বরাদ্দ দিতে শিক্ষা সচিবকে চিঠিও দিয়েছেন, যার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনকেও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে নিজ খরচে মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল ইসি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৪ জন ভোটারের ভোটপ্রদানের জন্য ৪২ হাজার ১৪৮টি ভোটকেন্দ্র ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে বর্তমানে সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৩ জন। অতিরিক্ত ভোটারের জন্য সম্ভাব্য ২ হাজার ৭৮৬টি ভোটকেন্দ্র বৃদ্ধিসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৪ হাজার ৯৩৪টি ভোটকেন্দ্র প্রয়োজন হতে পারে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র এবং ১৭ হাজার ৭২৩টি অস্থায়ী কক্ষ ছিল, এবার সে সংখ্যাও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে না। বাড়বে না এর অর্থ এই নয় যে অতীতে যা ছিল সেটাই একদম হুবহু এটা রাখতে হবে। যৌক্তিক বিবেচনায় যদি বাড়ে সেটা বাড়ানো হবে। আমাদের যে পার ভোট কেন্দ্র জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৩ হাজার জনের জন্য একটা কেন্দ্র, সেই অনুযায়ী আমরা হিসাব করে আমাদের ধারণা, যে ভোট কেন্দ্র না বাড়িয়েও শুধু ভোটার উপস্থিতির বিষয়টাকে যদি আমরা বিবেচনায় নিই, তাহলে হয়তো দেখা যাবে যে এটাকে সমন্বয় করতে পারছি। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি এখন আমাদের পার কেন্দ্রে পুরুষদের জন্য এটা আছে ৫০০ জনের জন্য একটা বুথ। এটাকে আমরা যদি ৬০০ করতে পারি তাহলে দেখা যেতে পারে যে আমরা একোমোডেট করতে পারব। সেইভাবে আমরা একটু হিসাব করছি এবং হিসাব করে যদি দেখি যে হ্যাঁ এটা গ্রহণযোগ্য তাহলে আমরা সেই মাত্রায় কাজ করব।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকার ওপর দাবি/আপত্তি গ্রহণের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর এবং প্রাপ্ত দাবি/আপত্তির নিষ্পতির শেষ তারিখ ১২ অক্টোবর। এ ছাড়া খসড়া ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করা হবে ২০ অক্টোবর।
ইইউডি/আরবি