কিন্তু মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সাঘাটার উল্যা বাজারে যা দেখা গেলো সেটা পুরোপুরি অস্বাভাবিক, অমানবিক, অসুস্থ মানসিকতার পরিচয় ছাড়া কিছুই নয়।
বন্যাকবলিত এ উপজেলার মানুষের পাশাপাশি চরম বিপর্যয়ে বাড়ির পোষা প্রাণীকুল।
বাজারের যে সড়কের মুখে বালির বস্তা ফেলে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে বন্যার পানি, ঠিক তার বিপরীত দিকের সড়কের মুখে সারি ধরে বসে দেখা গেলো হাঁস বিক্রি করতে। এই পর্যন্ত বিষয়টা স্বাভাবিক।

নতুন জায়গায় খেতে চাইছে না বলে যিনি খাওয়াচ্ছিলেন, তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পাশেরজন বললেন, ভাই কী করবো? ওজন বেশি না হলে ক্রেতা নিতে চায় না।
কেজি হিসেবে বিক্রি হয় কিনা জানতে চাইলে বলেন, পিস হিসেবে বিক্রি হয়, তারপরও ওজন বেশি না হলে বিক্রি হতে চায় না। তাই এ ব্যবস্থা।
আশপাশের লোকজন বিষয়টির প্রতিবাদ না জানিয়ে মজা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছিলেন।
খাওয়ানো হাঁসগুলোকে রাখা হয় রাস্তার ওপর পা বেঁধে। রীতিমতো জবুথবু সব। কেউ বসে ঘাড় বাকিয়ে চোখ বন্ধ করে।
বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁস এখন বেশি আসছে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে। জোড়া বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা। যোগান বেশি থাকলেও দাম কমেনি। বরং একটু বাড়তি।
সে যাইহোক, অবলা প্রাণীকে জীবিত অবস্থায় এতো কষ্ট দেওয়া, তাদের সঙ্গে এতো অমানবিক আচরণ করা বোধহয় কেবল মানুষের পক্ষেই সম্ভব!
সেদিন সুন্দরগঞ্জে ঘোড়ার গাড়িতে একগাদা কাঠ চাপিয়ে নিয়ে যেতে দেখে কিশোর অটোচালক রবি বলেছিল, ‘ভাইয়া দেখেন একটা ঘোড়ায় টানা গাড়িতে কত জিনিস চাপাইছে। ওদেরও তো কষ্টা আছে নাকি। ওরাও তো ‘মানুষ’!
রুমে ফিরে সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করলেও রবির সে কথার কোনো উত্তর ওই মুহূর্তে দিতে পারিনি!
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১৭
এএ/এইচএ/
আরও পড়ুন
** পানির তোড়ে ওষুধ বিক্রেতাও খোলা রাস্তায়
**‘আইজ হামাক খাবার নেই, কাঁঠাল সিদ্ধ কইরে খাব’
**রাস্তায় জ্বলছে চুলা, রাস্তায়ই খাওয়া
** গম-ভুট্টা-পাটক্ষেতের উপর দিয়ে চলছে নৌকা!
** পচা ড্রেনে ছিপ ফেলে কেজি কেজি মাছ!
** নির্বাচনী এলাকায় ‘তুলোধুনো’ এমপি দারা!
** তিতুমীরে হিজড়া-ভিক্ষুকের রাজত্ব!
** পেরেছে কলকাতা-রাজশাহী, পারলো না শুধু ঢাকা!
** ‘নির্বাচিত হলে গ্রামেও আনবো ডিজিটাল সুবিধা’
** এমপি হলে পুরো বেতন অসচ্ছল নেতাকর্মীদের দেব
** ভরসন্ধ্যায় নির্বাচনী উত্তাপ রাজশাহী মহানগর আ'লীগ অফিসে
** এই আমাদের বিমানবন্দর রেলস্টেশন!