ঢাকা: খুব শিগগির গৃহিণীরা তাদের স্বামীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন পেতে যাচ্ছেন। ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এরকম একটি প্রস্তাব আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মূলত ভারত সরকার এ উদ্যোগ নিচ্ছে।
ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কৃষ্ণা তিরাথ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “এ বিষয়ের ওপর আমরা একটি জরিপ করেছি এবং এ পরিকল্পনাটি নিয়ে আমরা আরো আলোচনা করার চিন্তাভাবনা করছি। বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে আছে। আমরা কোনো গৃহিণীকে যখন প্রশ্ন করি, আপনি কী করেন? তিনি উত্তর দেন, কিছ্ইু করি না। এ কারণে আমাদের মনে হয়েছে, তারা (স্ত্রীরা) পরিবারের জন্য যে কাজ করেন তা পরিমাপ ও হিসাব করতে একটি প্রক্রিয়া বা কৌশল বের করতে হবে। এতে সামাজিকভাবে নারীর পরিচয়ের ব্যাপারটি জোরদার হবে। ”
তিনি জানান, কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এ ধারণাটি নিয়ে বিতর্ক উত্থাপন করছে। বিষয়টি নিয়ে ১৭ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন ভারতের রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
কৃষ্ণা তিরাথ বলেন, “নারী ঘরে যে কাজ করেন তাও অর্থনৈতিক কর্মকা-, তবে তা হিসেবের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। শিশুদের পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠাতে খরচ হয়, আবার পরিবারের বাইরের কেউ ঘরের রান্না বা অন্য কাজ করলে তাকেও র্অথ দিতে হয়। আর স্ত্রীদের কাজের উৎকর্ষতার সঙ্গে অন্য কারো তুলনা চলতে পারে না। ”
ভারতের এ মন্ত্রী বলেন, স্বামীর বেতনের একটি অংশ যদি স্ত্রীর নামে দেওয়া হয়, তাহলে তা সম্ভবত শিশুর ভালো খাবার, শিক্ষা বা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেই ব্যয় করা হবে।
তিরাথ বলেন, “গৃহস্থালীর কাজ অর্থনৈতিক কমকা-, এটা স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) সত্যিকার প্রতিফলন এতে পাওয়া যাবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা দেশে মোট প্রকৃত বেকারের সংখ্যাও বের করতে পারব। ”
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১২
সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর