ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

সাইক্লোন থেন: পদুচেরি ও তামিলনাড়ুতে প্রাণহানি ৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১:৪০, ডিসেম্বর ৩১, ২০১১
সাইক্লোন থেন: পদুচেরি ও তামিলনাড়ুতে প্রাণহানি ৩৩

চেন্নাই: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় থেন ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলে গত শুক্রবার আঘাত হেনেছে। এতে পদুচেরি এবং কুদ্দালোরে কমপক্ষে ৩৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।



কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুদ্দালোরে ১৯ জন এবং পদুচেরিতে ৮ জনের খবর এ পর্যন্ত জানা গেছে।

আঞ্চলিক আবওহায়া অফিস জানিয়েছে, ব্যাপক ভূমিধস ঘটানোর পর ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম দিকে সরে যায় এবং দ্রুত দূর্বল হয়ে পড়ে। পরে কুদ্দালর থেকে ১০০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থান করে।

গত শুক্রবার বৃষ্টিসহ তীব্র বেগের ঝড়োহাওয়া ভারতের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বয়ে যায়।

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সাইক্লোন থেন নামে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চেন্নাই এবং এর আশেপাশের বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হেনেছে।

ঝড়ের আঘাতে লোকালয়গুলো বিপর্যস্ত। বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

ঝড়ের ফলে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিবাতাস কখনও কখনও ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। বাতাসের সঙ্গে উত্তাল সাগরের ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ছে দেড় মিটারেরও বেশি উচ্চতা নিয়ে।

উপকূলীয় গ্রামবাসীরা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঝড়ে চেন্নাই এবং পদুচেরিতে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সারারাত ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বেশিরভাগ জায়গাতেই টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

উপকূলে বসবাসরত জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরা সমগ্র উত্তর তামিলনাড়ু উপকূল এবং প্রতিবেশী অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলজুড়ে বাড়ি ঘড় ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে রাস্তাঘাটে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য আটটি দলকে ইতোমধ্যেই উপদ্রুত এলাকায় পাঠিয়েছে। আরও প্রায় ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভারতের ঘূর্ণিঝড় মূলত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এসময়ে ভারতের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। এতে প্রতি বছরই এই এলাকাগুলোতে মানুষের জীবন এবং সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১১৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩১, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।