বেইজিং: মুম্বাই থেকে আসা দুই ব্যবসায়ী শাংহাইয়ের একটি হোটেলে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন। তাদের জীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নে এখন ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় লোকজন এই দুই ব্যবসায়ীকে শাংহাইয়ের ইউ’র একটি হোটেল জিম্মি করে রেখেছে। তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণ হোটেলের বাইরে অপেক্ষা করছে। এই ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের ১০ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে বলে তাদের দাবি।
ভারতের পক্ষ থেকে চীনা সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হলে, চীনা কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওই পাওনা অর্থের একটা বন্দোবস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কিছুই করতে পারবেন না।
অবরুদ্ধ ওই দুই ব্যবসায়ী একটি ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে শ্যাম সুন্দর আগরওয়াল নামের একজন খুব অনুনয় করে বলেছেন, ‘দয়া করে আমাদের বাঁচান, তারা আমাদের পরনের কাপড় ছিড়ে দিয়েছে, ঢিল ছুড়ছে, আমাদের মারধর করেছে। এখানে আমাদের সঙ্গে পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে। ’
তবে দিল্লিতে চীনা রাষ্ট্রদূত ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি অবরুদ্ধ ওই ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এই ব্যবসায়ীদের জিম্মি করার সঙ্গে জড়িত পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চীনা সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান তিনি।
কিন্তু ভারত চাচ্ছে, আগরওয়াল এবং রাহেজা নামের ওই দুই ব্যবসায়ীকে পুলিশের নিরাপত্তায় শাংহাই কনস্যুলেটে পৌঁছে দেওয়া হোক। ভারত সরকার চীনকে এ ব্যাপারেও আশ্বস্ত করেছে, ওই দুই ভারতীয়কে দেশ ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হবে না। আর তাদের অবশ্যই আদালতের মুখোমুখি করা হবে। কিন্তু তার আগে তাদের উদ্ধার করা হোক।
আগরওয়াল এবং রাহেজা এক ইয়েমেনী নাগরিকের মালিকানাধীন কোম্পানিতে কাজ করতেন। দশ লাখ ডলার পাওনা অনাদায়ী রেখে তারা পলাতক হন। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এখন ওই পাওনা দাবিতে তাদের জিম্মি করেছে।
গত ২১ ডিসেম্বর একজন ভারতীয় কূটনীতিক এই বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার জন্য চীনের একটি আদালতে টানা পাঁচ ঘণ্টা বসে ছিলেন। এই ব্যক্তির সঙ্গে আদালতে অসৌজ্জন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগে তখন দিল্লি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৪, ২০১১