ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ভার্চুয়াল বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬:৫৬, জানুয়ারি ২০, ২০১২
ভার্চুয়াল বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে ভারত

নয়াদিল্লি: গুগল ভারতসহ বিশ্বের নামকরা ২০টি ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে ভারত। ওয়েবসাইটগুলোতে ‍‘আপত্তিকর বিষয়বস্তু’ থাকার অভিযোগ এনে এই মামলা করা হয়।



ভারতের নামকরা জিটিএস টেকনোলজির সিইও সন্দীপ কালাহান বলেন, ‘নেই কোনো দেশ, নেই কোনো মহাদেশ, নেই কোনো ভৌগলিক সীমারেখা। পুরো বিশ্বই আজ এক সুতোয় গাথা। আর সেই সুতোর নাম ইন্টারনেট। দ্রুতগতির তথ্য আদান প্রদানের এক অসীম ভান্ডার এই ইন্টারনেট। বর্তমান শতাব্দী হলো তথ্যপ্রযুক্তির সময়। কিন্তু এই তথ্যপ্রযুক্তির সময়েও কিছু দেশ এই ইন্টারনেটকে বেশ দমিয়েই রেখেছে। যেমন ধরা যাক চীন বা উত্তর কোরিয়ার কথাই। আবার অপরদিকে অবাধ তথ্যপ্রাপ্তির এই মাধ্যম ইন্টারনেটের কারণে আরব বিশ্বের অনেক শাসকের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে। ভার্চুয়াল এই জগত দিনদিন বাস্তবিক বিশ্বের জন্য হুমকির হয়ে দাড়াচ্ছে। ’

ভারত সরকারও সম্প্রতি এই ভার্চুয়াল যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। গত সোমবার ভারতের একটি আদালত জানায়, ‘গুগল এবং ফেসবুকে যে সকল বিষয়াদি এর ব্যবহারকারীরা পোস্ট করে তার জন্য দায়বদ্ধ গুগল এবং ফেসবুকই। তারা ওই বিষয়াদি থেকে সুবিধা ভোগ করে থাকে। মোট ২১ ওয়েবসাইট পাওয়া গেছে যারা অপত্তিকর বিষয়বস্তু রেখেছে তাদের ওয়েবসাইটে। এদের মধ্যে পর্ণোগ্রাফি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কদাকার ছবিও আছে। ’

ওই আদালত ভারতের বর্হিবিশ্ব সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওই ২১টি বৈদেশিক কোম্পানিকে আগামী মার্চের ১৩ তারিখের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৯ বছর বয়সী সাংবাদিক বিনয় রায় নিম্ন আদালতে ওই ২১টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, ওই ওয়েবসাইটগুলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় এমন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এমন জিনিসও তাদের ওয়েবসাইটে রাখছে।

বিনয় তার বক্তব্যে একটি আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থাকে জানান, ‘দেবি স্বরস্বতীর বিকৃত ছবি আমাকে রাগান্বিত করেছে। নবী মোহাম্মদের কার্টুন আমার বন্ধুকে রাগান্বিত করেছে। কেন এই ছবিগুলো প্রচার করার আগে দেখে নেওয়া হলো না। ’

আদালতের বিচারক সুরেশ কায়েত বিনয়ের করা পিটিশনের প্রেক্ষিতে বলেন, ‘চীনের মতো আমরাও এরকম ওয়েবসাইটগুলোকে ব্লক করবো। ’

এবিষয়ে ভারতের সাইবার আইন সংক্রান্ত আইনজীবী পাওয়ান দুগ্গাল বলেন, ‘তাদের অবশ্যই কিছু আইন করা উচিত। আর এই আইন হওয়া উচিত সাংবিধানিক উপায়ে। ’

তবে ভারতের ব্যাঙ্গালোরের তরুন স্যোশাল মার্কেটিং কর্মকর্তা জুবায়ের সিদ্দিকী বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘স্বাধীনতা বা মুক্তি শব্দটার মানে কি থাকলো তাহলে, সবকিছুই যদি আড়াল করা হয়। ভারতে ১২ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। দিনদিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছেই। ’   

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।