সিঙ্গাপুর সিটি: সরকারের মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের সবচে বেশি বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর সব সময়ই কদর পেয়ে আসছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দূর্নীতি রোধে দেশটি এই ব্যবস্থা নিয়েছিল।
কিন্তু অর্থনৈতিক চাপের মুখে এবার সেই কৌশল থেকে সরে আসছে সিঙ্গাপুর। মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করছে তারা।
বুধবার দেশটির মন্ত্রিসভার বেতন-ভাতা পর্যালোচনা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জেরারড এএ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, মন্ত্রীদের বেতন ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সুপারিশ নিয়ে তারা পর্যালোচনা করছেন।
১৯৯৪ সালে বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্ত-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাড়ানোর পর এই প্রথম মন্ত্রীদের বেতন এতো বেশি পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত মে তে সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং আট সদস্য বিশিষ্ট এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেন।
কমিটি বলছে, খুবই যৌক্তিকভাবেই বেতন কমানো হয়েছে। এটা একেবারে স্বচ্ছ এবং সিঙ্গাপুরের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে করা হয়েছে। বেতন কমানোর ফলে যাতে মেধাবীরা সরকারি চাকরি বিমুখ না হয় সে বিষয়টিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে হটিয়ে দেশের অতীব মেধাবীদের সরকারি কর্মসংস্থানে আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে সরকারি সামর্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে স্বীকার করছে কমিটি।
কিন্তু সেই সঙ্গে তারা জনগণের প্রতি এই বার্তা দিতেও ভোলেননি যে, ‘আপনাকে একটি রাজনৈতিক সামর্থ্যের মধ্যেই কাজ করতে হবে এবং এ কারণে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার তো করতেই হবে। ’
নতুন এই বেতন কাঠামোতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মধ্যমানের এক হাজার ৪শ’ বেতনভোগী যারা সিঙ্গাপুরেরই নাগরিক তাদের বেতন ৪০ শতাংশ কমে যাবে।
আর মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ছয়টি বিভাগের শীর্ষ ৪৮ জনের বেতন এক তৃতীয়াংশ কমানো হবে।
কমিটি আরও সুপারিশ করেছে- অবসর ভাতা ন্যূনতম হবে এবং প্রবৃদ্ধি বোনাসকে ন্যাশনাল বোনাসে প্রতিস্থাপন করতে হবে। সিঙ্গাপুরের আর্থ-সামজিক উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য এটা করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এখন নতুন এই বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন হলে, প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বাৎসরিক বেতন, ৩০ লাখ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার থেকে ৩৬ শতাংশ কমে হবে ২২ লাখ ডলার।
মন্ত্রীদের বাৎসরিক বেতন ৩৭ শতাংশ কমে ১১ লাখ ডলার হবে। যেখানে একজন জুনিয়র মন্ত্রীর বাৎসরিক বেতন শুরু হতো ৯ লাখ ৩৫ হাজার ডলার দিয়ে।
প্রেসিডেন্টের বেতন ৫১ শতাংশ কমিয়ে করা হবে ১৫ লাখ ৪ হাজার ডলার। স্পিকারের বেতন ৫৩ শতাংশ কমিয়ে করা হবে ৫৫ লাখ ৫ হাজার ডলার।
মন্ত্রীদের এই বেতন কাঠামো গত বছরের ২১ মে পর্যন্ত কার্যকর হবে। কারণ এদিনই নতুন সরকার ক্ষমতা নেয়।
এদিকে কমিটির এই সুপারিশ অনুমোদন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি।
তবে তার আগে ৪৭ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন একটি শ্বেতপত্র আকারে সংসদে বিতর্কের জন্য উপস্থাপন করা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৪, ২০১১