ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

শিগগিরই আনসার-গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ভিন্নভাবে দেখা যাবে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
শিগগিরই আনসার-গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ভিন্নভাবে দেখা যাবে

খুলনা: শিগগিরই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ভিন্নভাবে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা জেলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং সমাজের উন্নয়নে আনসার বাহিনীর অনেক কিছু করার আছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের নারী ও পুরুষ প্লাটুনে পেশাগত ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। প্রায় ৬১ লাখ সদস্যের কার্যক্রমকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সঙ্গত কারণেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তদারকি নিশ্চিত করতে এ বাহিনীর কার্যক্রম ডেটাবেজভিত্তিক ও ডিজিটাল করার কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, কেবল নির্বাচনকালে বা দুর্যোগ ও উৎসবের সময় সহায়তা করা ছাড়াও আনসারের আরো কিছু করার আছে। বিগত ছয় মাসে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দেশের প্রায় এক লাখ তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বছরে দুই-একটি বড় প্রোগ্রামের জন্য অপেক্ষা না করে সব সময়ই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে সহায়তা করতে হবে। আমাদের সেবা যেন দেশের বিশাল ব্যপ্তির প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পায়।

তিনি আরও বলেন, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, তারা অনেক সময় আমাদের ভিডিপির সদস্যদের বাদ দিয়ে বেনামে বাইরের লোকদের ঋণ দিত। এটা বন্ধ করা হয়েছে। এলাকার চাহিদা বিবেচনা করে গ্রামের আনসার-ভিডিপি ক্লাবের সদস্যরা ফসল উৎপাদন, কৃষিসহ বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকই বিনিয়োগ করবে। প্রয়োজনে ব্যাংকের পলিসি পরিবর্তন করতে হবে। আনসারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বেকারদের প্রশিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আনসার শব্দের অর্থ সহায়তাকারী, এ নামের মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা সামাজিক নিরাপত্তার জায়গায় কাজ করবো। আত্মনির্ভশীলতা হবে আমাদের মৌলিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মেহেদী হাসান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক মো. নূরুল হাসান ফরিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মিনহাজ আরেফিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সেবামূলক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এর আগে মহাপরিচালক জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে জেলা সমাবেশ উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
এমআরএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।