ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

‘চোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার তিন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০২৫
‘চোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার তিন গ্রেপ্তারকৃতরা

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় চোর সন্দেহে পিটুনির প্রতিবাদ করতে গিয়ে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) রাতে নিহতদের মা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে পলাশ থানায় মামলা করেন।

 

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- পলাশ উপজেলার কর্তাতৈল এলাকার আসাব উদ্দিনের ছেলে রাকিব (২৫) এবং সাকিব (২০)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পলাশের ভাগদী গ্রামের কুড়াইতলী এলাকার মো. উসমান আলী (৪৫), হবি হোসেন (৩৯) এবং পাভেল মিয়া (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোরে ভাগদী গ্রামের কুড়াইতলী এলাকায় দুই যুবক অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করার সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে যান। এ সময় তাদের হাতে কর্তাতৈল এলাকার হিমেল নামে এক যুবক ধরা পড়লেও আরেক যুবক পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন হিমেলকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পলাশ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।  

এদিকে চোর সন্দেহে ওই যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার বিষয়ে জানতে ঘটনার দিন বিকেলে ভাগদী এলাকায় যান রাকিব, সাকিবসহ কয়েকজন।

এ সময় তারা এক অটোরিকশাচালককে মারধর করে ফিরে আসেন। সন্ধ্যার দিকে পুনরায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যুবকসহ রাকিব, সাকিব ওই এলাকায় গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় এবং এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মাইকে ঘোষণা দেয়। একপর্যায়ে তাদের আটক করে পিটুনি দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাকিব ও সাকিবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করতে রাকিব ও সাকিবের বাবা, মা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও পিটুনি দেওয়া হয়। এতে তারাও গুরুতর আহত হন। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাই রাকিব ও তাদের বাবা, মাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান। পরে ঢাকা নেওয়ার পথেই মারা যায় রাকিব।

নিহত রাকিব ও সাকিবের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ভাগদী এলাকার বাচ্চু, মানিক, দুলাল, ওসমান, সোবাহান, রমজান, মোস্তফা, পাভেল ও বাদলসহ এলাকার আরও কিছু লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেদের পিটিয়ে এবং এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে দুই ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কর্তাতৈল তাদের বাড়িতে আনলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার মা-বাবাসহ এলাকার লোকজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বাবা মাকে শান্তনা দিতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাদের বাড়িতে আসে। মা রাবেয়া তার দুই সন্তানকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।  

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কর্তাতৈল স্কুল মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা নামাজ শেষে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের মা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

** ‘চোর’ সন্দেহে পিটুনি, প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।