ঢাকা: জুলাই ২৪-কে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সর্বশেষ স্ফুলিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর প্রেসক্লাবে গণফোরামের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলি, তাদের সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত বা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এখানে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার কোনো সুযোগও নেই।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম কোনো একদিনে হয় না। ২৪ সালের ৫ আগস্ট একদিনে হয়নি। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সর্বশেষ স্ফুলিঙ্গ হলো জুলাই ২৪। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে কারও একক নেতৃত্ব থাকে না।
৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সেই সময়ে দিন-রাত নারী-পুরুষ সবাই রাস্তায় ছিল। তখন কি কেউ বলেছে, আমরা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি? তিন দলীয় জোট ছিল, কিন্তু কেউ বলেনি এটি তাদের একক আন্দোলনের ফসল। সবাই বলেছে, এটি আমাদের সামগ্রিক আন্দোলনের অর্জন।
ডা. জাহিদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যদি শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকি এবং নিজেদের ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার মধ্যে না আনি, তাহলে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ রক্ষা করতে ব্যর্থ হব। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে, শান্তিকামী। এ দেশের মানুষ কোনো ধরনের উগ্রতায় বিশ্বাস করে না। এই মাটি কোনোদিন উগ্রতাকে প্রশ্রয় দেয়নি।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এমিরেটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান, কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।
আরকেআর/এসআরএস