ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

‘বেতন এত কম যে টাকার অংক বলতে লজ্জা হয়’

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪:১৮, আগস্ট ৩০, ২০২৫
‘বেতন এত কম যে টাকার অংক বলতে লজ্জা হয়’ শহীদ মিনারে সমাবেশ করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা/ ছবি: বাংলানিউজ

১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর শহীদ মিনারে সমাবেশ করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে সহকারী শিক্ষকদের নিবন্ধিত ছয় সংগঠনের জোট ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রাজধানীর শহীদ মিনারে সমাবেশ শুরু করেন।

 
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা দুপুর ২টা নাগাদ প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আমরণ অনশন করবেন।  

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান, খেলাফতে মজলিশের সভাপতি মাওলানা জালাল উদ্দিন, প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের নেতা তপন মণ্ডল, গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. সাখাওয়াত হোসেন তাদের দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন।

শিক্ষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ১শ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ ও ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে উন্নীত স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করার জটিলতা নিরসন।  

শিক্ষকরা বলেন, হাইকোর্ট থেকে প্রধান শিক্ষকদের ২০১৪ সাল থেকে ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদানের রায় দিয়েছেন। যা দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হলে ১৬ বছর পর দুটি টাইমস্কেল পেয়ে একজন প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেল দাঁড়াবে ২৩ হাজার টাকা।  

অপরদিকে একজন সহকারী শিক্ষকের ১৩তম গ্রেডে তাদের বেতনস্কেল ১১ হাজার টাকা শুরু হয়ে ১৬ বছর পর দুটি টাইমস্কেল পাওয়ার পর দাঁড়াবে ১২ হাজার পাঁচশ টাকায়। তাতে ১৬ বছর চাকরি করার পর একজন প্রধান শিক্ষকের সাথে একজন সহকারী শিক্ষকের বেতনের বৈষম্য হবে আনুমানিক প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

তারা বলেন, ফলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মেধাবীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতিসহ ১১তম গ্রেডে দ্রুত বেতন নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছি।  

সংহতি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও একটি স্বাধীন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে পারেনি। প্রাথমিক শিক্ষা হলো  বুনিয়াদ। যে দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, সে দেশ নষ্ট হয়ে যায়। যারা প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করেন, তাদের মর্যাদা নিশ্চিত হয়নি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, শিক্ষকতা পেশাকে অন্যান্য পেশার সাথে তুলনা করা হয়। অথচ এটা অন্যান্য পেশার ঊর্ধ্বে। কারণ তারা সমাজ গঠনে কাজ করেন। ফলে শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পে স্কিল প্রণয়ন করতে হবে।  

তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি জীবনের নিশ্চয়তা না পান, বেতন দিয়ে পরিবারের ব্যয়ভার না বহন করতে পারেম, তাহলে তারা কেন এ পেশায় আসবেন। কী নির্মম পরিবেশে  তাদের থাকতে হয়। যে বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চলে না। তাদের দাবি মেনে নিতে হবে।  

প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন কমিশন হয়েছে। কিন্তু আমরা শিক্ষানীতি পাইনি। আমরা ভেবেছিলাম, অভ্যুত্থানের পর শিক্ষকদের আর রাজপথে নামতে হবে না। অথচ প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যন্ত, সব শিক্ষকরা অবহেলিত। তাদের যে বেতন দেওয়া হয়, এত কম যে বলতে আমাদের লজ্জা হয়। মাত্র ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা।  

এফএইচ/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।