ঢাকা, রবিবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

জাতীয়

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আমরণ অনশনের হুমকি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০:২০, আগস্ট ৩১, ২০২৫
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আমরণ অনশনের হুমকি ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।  

শনিবার (৩০ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ শেষে এ হুমকি দেওয়া হয়।

সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো- এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ এবং ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে উন্নীত স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে বিবেচনা না করে প্রকৃত উচ্চতর গ্রেড প্রদান।

সহকারী শিক্ষকদের প্রধান দাবি প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের তিন ধাপ বেতন বৈষম্য দূর করা। তারা জানান, ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তারা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে চাকরি করতেন। কিন্তু ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট থেকে দুই ধাপ বৈষম্য তৈরি হয় এবং তখন থেকেই আন্দোলন শুরু হয়। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বেতন আপগ্রেডের মাধ্যমে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে তিন ধাপ বৈষম্য সৃষ্টি হয়।

২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড ১৪ থেকে ১৩-তে উন্নীত করা হলেও তারা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপের দাবি থেকে সরে আসেননি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে আছেন, যা সহকারী শিক্ষকদের মতে অগ্রহণযোগ্য।

শিক্ষকদের দ্বিতীয় দাবি হলো- প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। বর্তমানে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রায় বন্ধ। ২০১৭-১৮ সালে চলতি দায়িত্বে কিছু পদোন্নতি দেওয়া হলেও স্থায়ী করা হয়নি। অনেক শিক্ষক ৩০-৩৫ বছর একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের মতে, অবিলম্বে পদোন্নতি না হলে শিক্ষকদের মনে হতাশা তৈরি হয় এবং পাঠদানে অনীহা বাড়ে।

শিক্ষকদের তৃতীয় দাবি হলো- ১০ ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে উন্নীত স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে ধরা হচ্ছে, ফলে তারা প্রকৃত উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে চাকরির মেয়াদ গণনায়ও বৈষম্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি, উন্নীত স্কেল নয়, প্রকৃত উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে।

মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ইলিয়াছ হোসেন এবং শপথ বাক্য পাঠ করান আনিসুর রহমান।

শিক্ষকদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি শাহিনুর আল আমিন, তপন মণ্ডল, শাহিনুর আক্তার, আনিসুর রহমান ও শামসুদ্দিন মাসুদ। সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে বক্তব্য দেন আমিনুল হক, সাবেরা বেগম, রবিউল হাসান, রাসেল কবির, অজিত পাল ও নুরুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান, এটিএম জাকির হোসেন, জাহিরুল ইসলাম জাফর, এনামুল হক, মতি লালা দাস, শিরিন সুলতানা, মাবিয়া খাতুন, সুমন, তায়েজুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, মুন্নি খাতুন, মুমিন, গাজী সালাউদ্দিন, সরোয়ার হোসেন, নিগার সুলতানা ও নিউটন।

এমআইএইচ/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।