ঢাকা: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো, বাংলাদেশের (বিএটিবি) প্রতিযোগিতামূলক অায়োজন চালিয়েই যাচ্ছে। রোববার (০৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনে বিএটিবি’র ‘ব্যাটল অব মাইন্ড ২০১৫’ এর গ্রান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে বেআইনি এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে।
ব্র্যান্ড প্রমোশন, তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানে আকৃষ্ট করা এবং নীতিপ্রণেতাদের প্রভাবিত করতেই কোম্পানিটি প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।
সূত্র মতে, বাছাই পর্বে ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ৬৮৭ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১৭০ জনকে প্রথম রাউন্ডে নির্বাচিত করা হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে সেমিফাইনালের জন্য ৭৬ জনকে বাছাই করা হয়। আর ফাইনাল পর্বের জন্য নির্বাচিত ২০ জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই গ্রান্ড ফিনালে।
এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইন্সটিটিউট, বুয়েটসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে রোড-শো’রও আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে বিএটিবি ‘ব্যাটল অব মাইন্ড ২০১৫’ অনুষ্ঠানের জন্য রেজিস্ট্রেশন আহবান করেছিল, যা শেষ হয় গত ০৫ নভেম্বর।
সূত্র জানায়, গত এগারো (২০০৪-২০১৪) বছরে বিএটিবি কর্মসংস্থানের নামে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ১৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে মাত্র ৭১ জনকে চাকরি দিয়েছে। অথচ রোড-শো’, ভ্রমণ, বিনোদন, মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজে এ সময়ে ব্যয় করেছে কোটি কোটি টাকা।
বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এর ৫(গ) ধারায় তামাক কোম্পানির নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক, প্রতীক ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন ও পুরস্কার প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি আইনের এ ধারা লঙ্ঘন করলে অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা অনুর্ধ্ব তিনমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান বলবৎ আছে।
তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) বেআইনি প্রতিযোগিতা ‘ব্যাটল অব মাইন্ড ২০১৫’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা। রোববার সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বার্তায় এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৫
এমএন/এএসআর