ফরিদপুর: অবশেষে মাথা গোজার ঠাই হলো মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের পরিবারের।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সিএসআর তহবিল থেকে ক্রয়কৃত জমির দলিল ও বাড়ির চাবি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এসময় বাড়িটি উদ্বোধন করেন জনতা ব্যাংক লিমিটেড ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যলায়ের মহাব্যবস্থাপক জিকরুল হক। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনতা ব্যাংক এরিয়া অফিস ফরিদপুরের উপ-মহাব্যবস্থাপক এম এম আব্দুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র দাস, আবু তাহের হাওলাদার, সৈয়দ আবু জাহিদ, এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু জাফর বিশ্বাস, সোফেল উদ্দিন।
জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন চাকরি করতেন ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে (ইপিআর)। ১৯৭১-এ যুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধচলাকালীন সুন্দরবন অঞ্চলে পাক হানাদার বাহীনির সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।

undefined
এরপর শহীদ আমজাদ হোসেনের স্ত্রী অছিয়া বেগম তার দুই কন্যা ও এক পুত্র নিয়ে আশ্রয় নেন ফরিদপুর শহরের রথখোলায়। সেখানে সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকেন।
বিষয়টি নিয়ে ২০০১ সালে ফরিদপুরের সাংবাদিক বেলাল চৌধুরী একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পরে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে নগদ অর্থ প্রদান না করে শহীদ পরিবারটিকে জমি কিনে বাড়ি করে দেওয়ার সুপারিশ করেন।
পরবর্তীতে জনতা ব্যাংক দীর্ঘ দিন পর দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালে ফরিদপুরের বাখুন্ডা খালেক বাজার সংলগ্ন হাবেলী দয়রামপুর গ্রামে আমজাদ হোসেনের পরিবারের জন্য ১৩ শতাংশ জমি কিনেন এবং সেখানে একতলা একটি ভবন নির্মান করেন।
জনতা ব্যাংক লিমিটেড ফরিদপুর এরিয়া অফিসের তত্বাবধায়নে বাস্তবায়িত বাড়িটির নির্মাণ কাজ শেষে শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই পরিবারের কাছে জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৫
আরকেবি/বিএস