তবে বিএনপির প্রার্থীও কম যান না। বিএনপিপ্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামীপ্রার্থীর বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় বড় দুই দলের প্রার্থী এবং কর্মী-সমর্থকরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তারা। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী ক্যাম্প বেশ জমজমাট দেখা যায়। গান-বাজনায় মাতিয়ে রেখেছিলেন কর্মীরা। সন্ধ্যার দিকে বিএনপির নারীকর্মীরা মিছিল নিয়ে পাশ দিয়ে গেছেন। দুই প্রার্থীর প্রচারণায় বেশ প্রাণ পেয়েছিল ওই মুহূর্তটি।
ভোটারদের কাছে নানক পরিচিত এমপি হলেও সাদেক খানও এলাকার ছেলে। তবে ভোট চাইতে গিয়ে ভোটারদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে- নানককে কেন নমিনেশন দেওয়া হলো না? সে প্রশ্নের উত্তরে কর্মীরা বলছেন—নেত্রী তাকে (নানক) কেন্দ্রীয় ভোটের দায়িত্ব দিয়েছেন।
একাধিক প্রার্থী থাকলেও মূলত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ভোটারদের মন কাড়তে দুই প্রার্থীই নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে কিছু আশঙ্কার কথা বলছেন বিএনপিপ্রার্থী।
প্রচারণাকালে বিএনপিপ্রার্থী আব্দুস সালাম বলেন, ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের। জনগণ খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপিকে ভোট দেবে। ভোটে ধানের শীষের পক্ষে একটা বিপ্লব ঘটবে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেক খান বলছেন, প্রধানমন্ত্রী পর পর দুইবার প্রধানমন্ত্রী হওয়াতে এই দেশে যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এখন যে সমস্ত কাজ অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো শতভাগ পূরণ করা হবে।
অনুন্নত এলাকাগুলোকে আরো উন্নত করা, বস্তিবাসীদের থাকার সুব্যবস্থাসহ পানি ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সাদেক খান।
সূচনা কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্পে মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এমএ লতিফ বাংলানিউজকে বলেন, ব্যক্তি নানকের কোনো বদনাম নেই। আপা (শেখ হাসিনা) যে দায়িত্ব দিয়েছেন পরিপূর্ণভাবে তিনি সেই কাজ করেছেন। সাদেক ভাইকে এবার নমিনেশন দিয়েছেন আপা। তার ইমেজের ওপর নৌকা চলে যাবে।
নানক পেল না, সাদেক পেল। এই প্রশ্ন নিয়ে নানক ভাই নিজেই উত্তর দিয়েছেন। নানক ভাই-সাদেক ভাই একমঞ্চে উঠে ভোট চেয়েছেন নৌকার পক্ষে, বলেন লতিফ।
লতিফ আরো বলেন, এখানে কোনো দ্বিধা-বিভক্তি নাই। সাদেক ভাই এখানে বড় হয়েছেন। ধনী-গরিব সবার সাথে মিশতে পারেন। এলাকার ছেলে হিসাবে তিনি ভোট পাবেন।
এলাকার ভোটের হিসাব নিয়ে লতিফ বলেন, নৌকার প্রতিযোগিতা হবে ধানের শীষের সাথে। খুব বড় ব্যবধানে নয়, কনটেস্ট হবে। উন্নয়নের ওপর মানুষের বিশ্বাস থাকলে ভোট পাবেন সাদেক ভাই।
তিনি বলেন, ‘সোয়িং ভোটার’, সাধারণ কিছু ভোটার যারা তাৎক্ষণিকভাবে ঠিক করবেন কোথায় ভোট দেবেন এবং ইয়াং জেনারেশনের ভোট যেদিকে যাবে সেই প্রার্থী জয়ী হবেন।
এই তিন শ্রেণির ভোটারদের ভোট পেতে বাড়ি বাড়ি ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। মহিলা ভোট বেশি। মহিলাদের কাছে যেতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নারী কর্মীরা। তবে বিহারি ক্যাম্পের ভোটও কিছুটা প্রভাব রাখবে।
এ এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৬৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৬১২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৭ জন। সারা দেশে ছয়টি আসনের মধ্যে এই আসনটিতেও ইভিএমে ভোট হবে। তবে ভোটাররা ইভিএমের সাথে তেমন পরিচিত নন।
এ বিষয়ে লতিফ বলেন, আমাদের ভোটাররা নিম্নমানের, বস্তিবাসী, গরিব লোক বেশি। ভোট কম কাস্ট হবে। সচেতনতা নেই। লিফলেট তৈরি করে ভোটারদের দেখানো হচ্ছে।
ভোটাররা বলছেন, স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধান, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার জন্য তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। আর নারীদের চাহিদা গ্যাস সংকট মেটানো।
আওয়ামী লীগের কর্মী-সমার্থকরা বলছেন, এক সময় এই এলাকায় ৩৭টি পানির পাম্প চিল, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩টি। আরো ৪/৫টির কাজ চলছে। তখন পানির সমস্যা সমাধান হবে।
বেড়িবাঁধ পাড়ের কাছে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় আদাবর থানা মোটর শ্রমিক লীগ নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরি করেছে সাদেকের সমর্থনে। সংগঠনটির সভাপতি মো. খোকন বলেন, নৌকা মার্কা পাস করাইতে হইবো।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮
এমআইএইচ/ইএস/এমজেএফ