ঢাকা: কৃষি আদি সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন। সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি উপকরণ, প্রক্রিয়া পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও উদ্ভাবনে পাল্টে গেছে কৃষির ঐতিহ্য ও কৃষ্টি।
এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে দেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক জাদুঘর।

২০০৭ সালে চালু হওয়া এই জাদুঘরে এখনো চলছে কৃষি সম্পর্কিত ঐতিহ্যের সংরক্ষণ কাজ। সীমিত পরিসরে হলেও এ জাদুঘরটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান গ্রাম বাংলার কৃষিজ সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত কৃষি কাজের নিদর্শন, বিশেষ করে- বাঁশ ও বেতের তৈরি টুকরি, ওচা, মাথলা, বাঁশের তৈরি বাঁকসহ ঝুড়ি, বাঁশের তৈরি টুরং, কুরুম, তেরা, খালই, গরুর ঠোয়া, বিভিন্ন ধরণের হুক্কা, বাঁশের তৈরি চালুন, কুলা, ডুলি, লাঙল, জোয়াল, মই, কোদাল, দা, নিড়ানি, কাস্তে, কাঠের তৈরি ঢেঁকি, পলো, চেং, বাইর, উড়ি, সানকি, বিজয়পুরের চীনা মাটি, এঁটেল মাটি, দুআঁশ মাটিসহ বিভিন্ন ধরনের মাটি, জীবাণু সারসহ বিভিন্ন ধরনের সার।

রয়েছে অজগর সাপ, জাতিসাপসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর কঙ্কাল, মাটির তৈরি বাঘসহ গ্রাম বাংলার কৃষকদের ব্যবহৃত এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন কৃষি উপকরণ। শুধু তাই নয়, যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ব্যবহৃত নানা রকম প্রবাদ বাক্য, খনার বচন প্রভৃতিও স্থান পেয়েছে জাদুঘরটির দেয়ালে দেয়ালে।
জাদুঘরের একটি অংশে আদিবাসী গারো সম্পদায়ের বংশ ধারার বাহক নাতক, ক্রাম ও ডামা রয়েছে। তাদের মদ তৈরি উপকরণ গাছেক, রাউ, ফং, ঝান্ছি, দিক্কাও সেখানে স্থান পেয়েছে। আছে গারোদের বাদ্যযন্ত্র নাগ্রা, অলংমা, ওঠাকারু, সানাই ও মিল্লাম। দেশীয় ঐতিহ্যের বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে একতারা, লাউয়া, বেহালা, দোতরা, তরই বাঁশের বাঁশিসহ লোহা ও অন্যান্য বাঁশের বাঁশি, হারমোনিয়াম ও শঙ্খ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে মাথার খুলিসহ মহিষ, বন ছাগল ও হরিণের শিং।

১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্স অধ্যয়নের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ১৯৮১ সালে বাকৃবি’র প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্যাদি প্রক্রিয়া কাজে সর্বপ্রথম এটি ব্যবহৃত হয়। মাইক্রো কম্পিউটারটি সঙ্গে ব্যবহৃত প্রিন্টারটিও এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও দেশে কৃষি শিক্ষায় সর্বপ্রথম ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের কয়েকটি ক্যালকুলেটরও স্থান পেয়েছে এই জাদুঘরে।
কালের ধারায় কৃষির আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাও কম নয়। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর পূর্ব বাংলার কৃষি শিক্ষার উন্নয়নে ঢাকায় কৃষি ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা মিছিল ছাড়াও ১৯৯২ সালে ‘লাঙল যার জমি তার’ স্লোগান তুলেছিলেন।

কৃষি জাদুঘরটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী শাহানারা আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, কৃষিই এদেশের কৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি বলেই বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ হিসেবে অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে স্বীকৃত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাতীয় সহযোগিতা এলে এটি হতে পারে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। জাদুঘরটি ছুটির দিন ছাড়া সকাল নয়টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১৩
এএ/এমজেডআর