এক সময় এখানে ঘাট বানিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়।
ভুরভুরিয়া নদীটি বালিসিরা টিলা থেকে উৎপন্ন হয়ে হাইল হাওরের সঙ্গে মিশেছে। সারাবছর পানি থাকে, মোহনার দিকে মাছও মেলে। এ নদীর সবচেয়ে বড় উপযোগিতা হলো চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীরা এ নদীর পানি গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করে থাকেন।
‘নদী গবেষক এবং রিভারাইন পিপল’ এর মহাসচিব শেখ রোকন ভুরভুরিয়া সম্পর্কে বাংলানিউজকে বলেন, আন্তর্জাতিক সংজ্ঞানুযায়ী যে কোনো প্রাকৃতিক প্রবাহমান জলধারাকে অবশ্যই নদী বলা যাবে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক প্রবাহ মাত্রই ‘নদী’। সে হিসেবে ভুরভুরিয়া একটি নদী। স্থানীয়ভাবে ‘খাল’ বা ‘ছড়া’ বলে এ নদীটিকে ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক এ জলধারার গুরুত্ব অনেকাংশে কমিয়ে প্রবাহটি মেরে ফেলার আয়োজনও পোক্ত করা হচ্ছে।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যেমন ধরুন- আলপিন দিয়ে আমাদের শরীরে খোঁচা দিলে আমরা হয়তো কিছুটা ব্যথা পাবো; কিন্তু সেই আলপিন দিয়ে যদি পিঁপড়ার শরীরে খোঁচা দেয় হয়, তাহলে তার তো জীবনই শেষ। কারণ সে তো ছোট। ওই খোঁচার আঘাত সে সহ্য করতে পারবে না। ছোট নদীর ক্ষেত্রে বালু উত্তোলনের বিষয়টা সম্পূর্ণ এমনই। ’
তিনি আরো বলেন, বালু উত্তোলনের দুটো খারাপ দিকের মাঝে একটা হলো তা নদীর কাঠামো নষ্ট করে দেয়। বালুর এই যে স্তর এবং নদীর বেগ তা শত শত বছর বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আপনি যখন সেই নদীর একটি অংশ খুঁড়ে ফেললেন তখন ওখানে গর্ত হবে এবং পানি এসে ঘূর্ণিপাক খেতে খেতে মাটিতে চর পড়বে। তখন বালিগুলো আলগা হয়ে যাবে। চর পড়লেই সেখানে ভাঙন দেখা দেবে। ভুরভুরিয়া নদীর দুইপাড় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, শহরতলী ঘেঁষা এই ভুরভুরিয়া নদীকে টিকিয়ে রাখতে তার উপর আমাদের নজরদারী রয়েছে। এখন আর সেখান থেকে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হচ্ছে না।
শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দু’ডজনের বেশি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
বাংলাদেশ সময়: ০৯২৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০১৯
বিবিবি/এসএইচ