ঢাকা, সোমবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২, ১৯ মে ২০২৫, ২১ জিলকদ ১৪৪৬

ফিচার

সর্বরোগ সংহারী লাউ!

শাহ্ আলম ভূঁইয়া, নান্দাইল সংবাদাদাতা | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০:৫৫, এপ্রিল ১০, ২০১২
সর্বরোগ সংহারী লাউ!

নান্দাইল (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সুনামখালী গ্রামের একটি লাউ গাছের গোড়ায় ছোট, মাঝারি ও বড় আকৃতির অসংখ্য লাউ ধরেছে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের কাছে বিষয়টি অতি সাধারণ।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, এটিকে সর্বরোগ সংহারী ধন্বন্তরি ঠাউরে নিয়েছে এলাকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিছু মানুষ।

তারা জটিল রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির আশায় ওই লাউ ধোয়া পানি পান করছে। শুধু তাই নয়; বালা-মুসিবত থেকে রেহাই পেতে লাউ গাছটির গোড়ায় রেখে যাচ্ছে নগদ টাকা-পয়সা!
 
সরজমিনে গেলে গাছটির মালিক নূরুল ইসলাম (৫৫) বাংলানিউজকে জানান, শীতকালে লাউ গাছটি তিনি রান্নাঘরের ভিটার কাছে রোপণ করেন। গাছটিতে শীত মৌসুমে লাউও ধরেছে।

তিনি জানান, শীত মৌসুম চলে যাওয়ার পর ওই গাছটির গোড়ায় থোকায় থোকায় অসংখ্য লাউ ধরে। এ খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন গাছটি দেখতে আসছে।

এরমধ্যে কেউ কেউ এই লাউগুলোর উপর পানি ঢেলে তা পান করছে। অনেকে বোতলে করে নিয়েও যাচ্ছে লাউ ধোয়া পানি। আবার অনেকে লাউ গাছের গোড়ায় দুই-পাঁচ টাকা রেখে যাচ্ছে।  

যদিও গাছের মালিক নূরুল ইসলামের স্ত্রী জায়েদা খাতুন (৪৫) বাংলানিউজকে বলেন, ‘রোগব্যাধি হওয়ার ভয়ে এই লাউগুলো আমরা খাচ্ছি না’।

সুনামখালী গ্রামের মুর্শিদা আক্তার (৪০) বলেন, ‘জীবনে কোনোদিন দেখিনি গাছের গোড়ায় লাউ হয়। এই গাছে এতো লাউ ধরেছে, অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আমাদের নজির দেখাচ্ছেন। এই অলৌকিক লাউগুলো দেখে মনে হচ্ছে এগুলো আমাদের উপকারেও আসতে পারে’।  

শিবনগর গ্রামের হেলেনা আক্তার (৩৫) জানান, পাশের বাড়ির একজনের কাছে শুনে তিনি গাছটি দেখতে এসেছেন। বালা-মসিবত দূর হওয়ার জন্য তিনি গাছের গোড়ায় দুটো টাকা রেখেছেন বলে জানালেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বাংলানিউজকে বলেন, ‘লাউয়ের বৈজ্ঞানিক নাম ‘লেজেনারিয়া বালগারিজ’। এটি ‘কিউকার ভিটাসিয়া’ পরিবারের অন্তর্গত শীতকালীন সবজি এবং সহবাসী উদ্ভিদ’।

তিনি জানান, গাছে স্ত্রী, পুরুষ ও উভয় লিঙ্গ ফুল জন্মে। স্ত্রী ফুলের ডিম্বক গাছের গোড়া হতে যে কোনো স্থানে থাকতে পারে। পুরুষ ফুলের পরাগ নালিকা প্রাকৃতিক উপায়ে গাছের যে অংশে স্ত্রী ফুলের ডিম্বক আছে, সেখানেই ডিম্বক ত্বক ভেদ করে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।

ফল হলো রূপান্তরিত গর্ভাশয়। যা নিষেকের পর বিকশিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি গাছের গোড়ায় সম্পন্ন হওয়ায় এই গাছের গোড়ায় অসংখ্য লাউ ধরেছে।      

নান্দাইল শহীদস্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘ওই লাউ ধোয়া পানি খাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ কুসংস্কার। উদ্ভিদ বিদ্যায় এটি স্বাভাবিক বিষয়’।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৬, এপ্রিল ১০, ২০১২

শাহ্ আলম ভূঁইয়া / সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।