কলকাতা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি অভয়ারণ্য তৈরি হতে চলেছে। প্রস্তাবিত ওই অভয়ারণ্যের নাম ‘পশ্চিম সুন্দরবন অভয়ারণ্য’।
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেতও মিলেছে। রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণার বন বিভাগের অধীনে চুলকাঠি ও ঢুলিভাসানী জঙ্গল দু’টিকে নিয়ে নদী বেষ্টিত ৪৬২.৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় এ অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হবে।
পাথরপ্রতিমা ব্লকের অধীনে রামগঙ্গা ফরেস্ট রেঞ্জের পক্ষ থেকে বনের গভীরে বন বিভাগ। ৫৩ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করতে চলেছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার সংস্থাকে কাজের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের ধারে ওই ওয়াচ টাওয়ারের জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ হয়েছে ২৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। আসন্ন শীত মৌসুম থেকে পর্যটকরা যাতে সেখানে বেড়াতে যেতে পারেন সেই চেষ্টা করছে বন বিভাগ।
বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা ও পর্যটনের উন্নতির কথা মাথায় রেখে নতুন এই অভয়ারণ্যটি গড়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য বন বিভাগ। সুন্দরবনের মোট ৫৪টি দ্বীপে বাঘ, হরিণ, বাঁদর ও গুঁইসাপ ছাড়াও ছোট-বড় নানা প্রাণীর বসবাস। রয়েছে অসংখ্য পাখিও। দ্বীপগুলোর মধ্যে তিনটি দ্বীপকে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে একটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলো হলো সজনেখালি (এটি সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীনে) বাকি দু’টি হলো লোথিয়ান দ্বীপ ও হ্যালিডেদ্বীপ।
ওই তিনটি দ্বীপ দক্ষিণ ২৪ পরগণা বনবিভাগের অধীনে। দ্বীপগুলো ছাড়া বনবিভাগ এলাকায় নতুন ‘পশ্চিম সুন্দরবন অভয়ারণ্য’ গড়ে উঠতে চলেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে মাতলা নদী ও পশ্চিমে ঠাকুরাণ নদী। উত্তরে ঢুলিভাসানী জঙ্গল ও চুলকাঠি জঙ্গল। নতুন অভয়ারণ্যটি গড়ে উঠলে একদিকে যেমন বন বিভাগে কর্মী সংখ্যা বাড়বে, পাশাপাশি বনরক্ষার কাজটিও জোরদার হবে।
শুধু তাই নয়, দেশ-বিদেশের পর্যটকদেরও ভিড় বাড়বে। কোষাগারে বাড়বে রাজস্বও। রাজ্যের বনমন্ত্রী হিতেন বর্মণ জানান, বন ও বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কড়াকড়ি, পরিবেশ উন্নয়ন ও পর্যটনের উন্নতির কথা মাথায় রেখে নতুন এ অভয়ারণ্যটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮২০ ঘণ্টা, আগস্ট ০৯, ২০১৩
এসপি/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর