ওয়াশিংটন: লিবিয়ায় ন্যাটো হামলায় বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা তদন্তের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত রাশিয়ার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান।
গত ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়ায় শুরু হওয়া সশস্ত্র বিদ্রোহে বেসামরিক লোকদের নিরাপত্তা দেওয়ার অজুহাতে বিদ্রোহীদের সামরিক সহয়োগিতা দেয় ন্যাটো।
তবে ন্যাটোর দাবি, হতাহতদের বেশিরভাগই গাদ্দাফি অনুগত সেনা সদস্য যারা বেসামরিক লিবীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছিল।
এখন রাশিয়া ন্যাটোর দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করছে। তাদের অভিযোগ, ন্যাটোর বিমান হামলায় লিবিয়ায় ব্যাপকভাবে বেসামরিক এবং নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছে যাদের সঙ্গে যুদ্ধের কোনও সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে একটি তদন্ত অনুষ্ঠানেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
কিন্তু লিবিয়ায় ন্যাটো অভিযানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ব্যাপারে জাতিসংঘের যে কোনও তদন্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এর মধ্যে গত বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের লিবিয়া সংক্রান্ত একটি উপদেষ্টা কমিটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়।
বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের পাকিস্তানের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ হোসেইন হারুন জানান, তার দেশ লিবিয়ায় বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ তদন্তের ব্যাপারে জাতিসংঘের নেওয়া যে কোনও উদ্যোগকে সমর্থন জানাবে ।
এদিকে গত বুধবারের বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদে জানুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি দক্ষিণ আফ্রকার প্রতিনিধি বাসো সাংকুও রাশিয়ার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, তিনি মনে করেন, বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন আরোপের জন্য জাতিসংঘ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ন্যাটো তার অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছে। তারা সেখানে অনেক বেসামরিক মানুষও হত্যা করেছে যা কেউ জানে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগেই সজাগ ছিলাম যে, লিবিয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের প্রদক্ষেপের বাস্তবায়নই একটা সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেখানে অনেক সীমালঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে শক্ত কণ্ঠস্বর শুনা যাচ্ছে। ’
এর আগে রাশিয়ার উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সুসান রাইস রাশিয়ার দাবিকে স্টান্টবাজি বলে আখ্যায়িত করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৬, ২০১২