তেল আবিব: ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে আরও শক্তিশালী করার নতুন ফর্মুলা হাজির করেছেন দেশটির সাবেক সেনা শাসক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ।
তিনি বলেছেন, ‘কাশ্মীরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইসরায়েলের ভারতমুখী মনোভাব প্রতিরোধ করতে পাকিস্তানের উচিৎ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।
ইসরায়েলের একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের এই সাবেক সামরিক শাসক।
মোশারফ বলেন, ‘ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইহুদী লবির কাছাকাছি আসা যাবে, এর ফলে ভারতের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে তা কাজে লাগানো যেতে পারে। ’
পশ্চিমাদের তল্পিবাহক হিসেবে নিন্দিত পাকিস্তানের এই সাবেক শাসক ইসরায়েলি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের বর্তমান ভারতপন্থী অবস্থান প্রতিরোধ করতে পাকিস্তানের নিজেদের স্বার্থেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা উচিৎ। ’
অনেক মুসলিম দেশেরই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, প্রত্যক্ষভাবে না হলেও গোপনে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে উল্লেখ করে বর্তমানের পরিবর্তিত বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতেই কথা বলছেন বলেও দাবি করেন মোশাররফ।
ক্ষমতায় থাকাকালীন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয় হতে তৎপর এই সামরিক শাসক।
তিনি জানান, সে সময় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি বিবৃতি দিয়েছিলেন এবং আমেরিকান জিউশ কংগ্রেসের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাও বলেছিলেন। তাদের তরফ থেকেও উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মোশাররফ ক্ষমতায় থাকাকালে পাকিস্তানি জনগণের মারাত্মক ইসরায়েল বিরোধী মনোভাব উপেক্ষা করে জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারনের সঙ্গে মোলাকাত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সংগঠন আমেরিকান জিউশ কংগ্রেসে ভাষণ দেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশীদ মাহমুদ কাসুরিকে ২০০৫ সালে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলভান শালোমের সঙ্গে ইস্তাম্বুলে একটি বৈঠকে মিলিত হতে তুরস্কে পাঠিয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকার কালে মোশাররফ দাবি করেন, পাকিস্তানি জনগণ ইসরায়েলকে পছন্দ না করলেও পাকিস্তানিদের মধ্যে কোনও ইহুদি বিদ্বেষ নেই। তার প্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানে বেশ কিছু সংখ্যক ইহুদির বসবাসের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২২০৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৮, ২০১২