নয়াদিল্লি: ২০০৫ সাল থেকে এ যাবৎ ৭৮০ জন সেনা আত্মহত্যা করেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এক রিপোর্টে সেনাদের আত্মহত্যা প্রবণতার এই ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এদিকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে দুইজন ভারতীয় মনোবিদ সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন।
গবেষকরা পরিসংখ্যানে দেখান যে ভারতীয় সেনাদের ৩৮.৫৬ শতাংশই বর্তমানে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।
সেনাদের ১৪.১৭ শতাংশ মদ্যপানে আসক্তিজনিত কারণে স্বাস্থ্যগত হুমকির সম্মখীন। এছাড়া ৯.৮ শতাংশ সেনা বিষণ্ণতায় ভুগছে বলেও গবেষনার রিপোর্টটিতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মানসিক স্বাস্থ্যের এই কারণ অনুসন্ধান করে গবেষকরা মনে করেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির এবং দেশের অশান্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর শক্তিপ্রয়োগের ঘটনা সেনাদের মানসিকতায় ব্যাপক ভাবে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে ।
ভারতের বিশাল সেনাবাহিনীর বেশির ভাগকে অংশকেই মূলত দেশটির বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা এবং আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নপ্রবণ এলাকায় নিয়োজিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমনের কাজেও তাদেরকে নিয়োজিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যার কারণ হিসেবে তাদের গবেষণায় দেখান , অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্তব্যপালনকালে ভারতীয় সেনারা ব্যাপক চাপের মুখে থাকেন। ফলে তাদের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া কর্মস্থলের বাজে পরিবেশ, অপর্যাপ্ত ছুটি এবং কম বেতনের কারণেও তারা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকেন।
এ ব্যাপারে একজন রাজনীতিক বিশেষজ্ঞ বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাধারণ সেনাদের অব্যাহত ভাবে বিরুপ পরিস্থিতির মধ্যেও কর্তব্য পালন করতে বাধ্য করা হয় । এর পাশাপাশি তারা দীর্ঘদিনেও তাদের পরিবারের সংসর্গ লাভ করতে পারেনা।
তাছাড়া সেনারা মূলত ভারতের এমন এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করে যেখানে স্থানীয় জনগণ তাদের ওপর বিরুপ মনোভাব পোষণ করে থাকে । আর এই সব কারণেই সেনাদের মানসিকতায় ব্যাপক চাপ পড়ে। ফলে তারা ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অব্যাহত মানসিক চাপের কারণেই শেষ পর্যন্ত হতাশায় ভুগতে থাকা সেনারা অস্বাভাবিক হয়ে নিজেদের সঙ্গীদের গুলি করে অথবা আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটায় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৫০ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৯, ২০১২