ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

মহাবিপর্যয়ের ঘড়ি এগিয়ে গেল আরও একধাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯:৫৮, জানুয়ারি ১১, ২০১২
মহাবিপর্যয়ের ঘড়ি এগিয়ে গেল আরও একধাপ

লন্ডন: মহাবিপর্যরে ঘড়ির কাঁটা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এতে প্রমাণিত হয়, পৃথিবী ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।



ব্যুলেটিন অব অ্যাটোমিক সায়েন্টিটিস্টে (বিএএস) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের পাঁচ মিনিট আগে ঘড়ির কাঁটা এক মিনিট এগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘দ্য ডুমসডে ক্লক’ নামে এই ঘড়িটি বিশ্বে পরমাণু হুমকির এবং বিপদের মাত্রার একটি প্রতীকী পরিমাপ করে। পরমাণু অস্ত্র এবং জলাবায়ূ পরিবর্তন নিরসণে অপর্যাপ্ত অগ্রগতির প্রেক্ষিতে এই ঘড়ির কাঁটা মহাপির্যয়ের পথে এক মিনিট এগিয়ে গেল।

এ ঘড়িটি সর্বশেষ ২০১০ সালে এক মিনিট এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে বিএএস বলেছে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অনেক দেশের ব্যর্থতা এ বছর উদ্বেগের বড় কারণ। তারা বলছে, দুই বছর আগেও তারা মনে করতেন, বিশ্ব নেতারা বৈশ্বিক হুমকিগুলো আমলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নানা কারণে সেই প্রবণতায় ভাটা পড়েছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিপরীতটিও ঘটেছে। ’

বিএএস’র বোর্ড স্পন্সরের সদস্য জয়ন্ত ধনপালা বলেছেন, ‘রুশ-মার্কিন পরমাণু সম্পর্কে যখন উন্নতি দেখা যাচ্ছে তখন অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও একই পদক্ষেপ আশা করা যেতে পারে। ’

জাতিসংঘের পরমাণু নিরস্ত্রিকরণ কার্যক্রমের সাবেক এই উপ-মহাসচিব আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, ভারত, পাকিস্তান, মিশর এবং ইসরায়েল সবাই সমন্বিত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা সনদ মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াও পরমাণু অস্ত্রের উপাদান উৎপাদন কমানো বন্ধ করেনি। এই সব ব্যর্থতা বিশ্বকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ঢেলে দিচ্ছে। ’

এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার ছিল এ বছর মারাত্মকভাবে সতর্কতামূক।

বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনও এখানে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনাযোগ্য।

বিএএস আরও বলেছে, ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রে বিপর্যয়ের ঘটনা একটি গুরুতর প্রশ্নকে সামনে এনেছে, তা হলো নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ডিজাইন এবং এর তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া কতোটা নিরাপদ।

উল্লেখ্য, বিএএস নামে বিজ্ঞানীদের এই সংগঠনটি ১৯৪৭ সালে গঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু বিজ্ঞানীরা এই সংগঠন গঠন করেন।

প্রাথমিকভাবে এই ঘড়িটি শুধু পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে এগুনো হতো। তবে ২০০৭ সাল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

১৯৪৭ সালে রুশ-মার্কিন ঠাণ্ডাযুদ্ধ চলাকালে এক মধ্য রাতে এই ঘড়ির কাঁটা ১১ মিনিট এগিয়ে দেওয়া হয়।

সময় এগিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়াশিংটনে একটা সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।