লন্ডন: শিল্পন্নোত দেশে হরমামেশা উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণের সঙ্গে অর্থনৈতিক ধসের একটা অস্বস্তিকর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন নতুন আকাশচুম্বি অট্টালিকা নির্মাণের সঙ্গে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সঙ্কট নাকি সব সময় হাত ধরাধরি করে চলেছে, অন্তত এযাবতকালের দৃষ্টান্তগুলো এমন কথাই বলে।
ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক বারক্লেস ক্যাপিটালের জরিপে এমন অদ্ভুত সম্পর্ক দেখা গেছে।
উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ভবনের নাম। যেমন- এম্পায়ার স্টেট ভবন যখন নির্মাণ করা হয় যখন আমেরিকার গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা ঘনীভূত হচ্ছিল। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা নির্মাণ করা হয় দুবাই সঙ্কটে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে।
বর্তমানে চীনে সবচে বেশি সংখ্যক অতিউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতেও এখন এমন ১৪টি ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে।
বারক্লেস ক্যাপিটালের বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণ করা হয় মূলত আরও উঁচু আকাশচুম্বি ভবন নির্মাণের স্বপ্ন-সৌধ হিসেবে। এটা আসলে পুঁজির ব্যাপকভিত্তিক অসম বণ্টনেরই একটা প্রতিফলন এবং অর্থনীতিতে সংশোধন জরুরি করে তোলে।
ব্যাংকটি আরও বলছে, বিশ্বের প্রথম আকাশচুম্বি ভবন ‘একুইট্যাবল লাইফ’ নির্মাণ সম্পন্ন হয় নিউইয়র্কে ১৮৭৩ সালে। ঠিক সেই সময়ই পাঁচ বছরব্যাপী মন্দা চলছিল। এটা ভেঙে ফেলা হয় ১৯১২ সালে।
এমন ঘটনার আরেক উদাহরণ শিকাগোর উইলিস টাওয়ার যা আগে সিয়ারস টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল তা নির্মাণ করা হয় ১৯৭৪ সালে। সে সময় জ্বালানি তেল নিয়ে সঙ্কট চলছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সোনার সঙ্গে ডলারের মূল্য নির্ধারণ বাতিল করা হয়।
আবার মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার নির্মাণ করা হয় ১৯৯৭ সালে সে বছরই এশিয়ার অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দা দেখা দিয়েছিল।
এই পর্যবেক্ষণ কিন্তু লন্ডনবাসীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে কারণ, সেখানেই নির্মিত হচ্ছে পশ্চিম ইউরোপের সবচে উঁচু ভবন শার্দ। এর উচ্চতা হবে এক হাজার ১৭ ফুট।
একই সঙ্গে চীনে যে হারে উঁচু ভবন নির্মাণ হচ্ছে তাতে সেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্যও যথেষ্ট ঝুঁকি অপেক্ষা করছে। বিশ্বের উঁচু ভবনের ৫৩ শতাংশই রয়েছে চীনে।
২০০৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে সঙ্কট শুরুর পর চীন সবচে বড় ঋণদাতা দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। আর এতে বিশ্বের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পণ্যের দাম বেড়ে যায় আশাতীতভাবে।
আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে চীনে বড় বড় শহরগুলোতে দেশটির পণ্য বাজার ২০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভারতের বিলিয়নেয়ার মুকেশ আম্বানি মুম্বাইয়ে ২৭ তলার একটি নিজস্ব আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বাসভবন হিসেবে বিশ্বে সবচে ব্যয়বহুল ভবন হবে এটি।
স্থানীয় পত্রিকাগুলো বলছে, এই ভবন তত্ত্বাবধানের জন্যই লাগবে ৬০০ কর্মচারী। নির্মাণ খরচ ধরে ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে একশ’ কোটি ডলার।
২৪০ মিটার বা তারও বেশি উচ্চতার ভবনের সংখ্যা সারা বিশ্বে ২৭৬টি। তার মধ্যে ভারতে রয়েছে মাত্র দুটি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও ১৪টি আকাশচুম্বি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে দেশটি।
উল্লেখ্য, বারক্লেস ক্যাপিটাল ১৯৯৯ সাল থেকে নিয়মিত ভাবে স্কাইক্রেপার ইনডেক্স বা সূচক প্রকাশ করে আসছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২০৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০১২