ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ঋণ সঙ্কট: গ্রিসের রাস্তায় পরিত্যাক্ত শিশু!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১:৫৫, জানুয়ারি ১২, ২০১২
ঋণ সঙ্কট: গ্রিসের রাস্তায় পরিত্যাক্ত শিশু!

এথেন্স: ইউরোজোনের অর্থনৈতিক সঙ্কট মানবিক বিপর্যয়ের পথে যাচ্ছে। অন্তত গ্রিসের সাম্প্রতিক ঘটনা সেরকম পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।



গ্রিসের রাজপথে অনেক শিশুর দেখা মিলছে বাবা-মারা যাদের ত্যাগ করে গেছেন। সন্তানের ব্যয়ভার বহনে অক্ষম বাবা-মা বা অভিভাবকরা নিরুপায় হয়েই এই নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ হলো ইউরো জোনের ঋণ সঙ্কটের সবচে মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র।

ব্যয় সঙ্কোচণ নীতির বলি হয়েছে অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধ। বাজারে এসপিরিনের ভয়াবহ সঙ্কট। এই তথ্য দিচ্ছেন গ্রিসের ফার্মাসিস্টরা।

এথেন্সের যুবকেন্দ্র আর্ক অব দ্য ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চারটি শিশু তাদের মধ্যে একটি সদ্যজাত শিশুও রয়েছে, তাদের সেন্টারের দরজায় কেউ ফেলে গেছে। একদিন এক মা তার দুই বছর বয়সী শিশু কন্যা নাতাশাকে তাদের হাতে তুলে দিয়েই দৌড়ে পালিয়ে গেছেন।

একজন শিক্ষক চার বছর বয়সী শিশু আন্নাকে রাস্তায় পেয়েছেন। শিশুটির হাতে একটি কাগজ ধরা ছিল যাতে লেখা রয়েছে, ‘আমি আজ আন্নাকে নিতে আসছি না কারণ তাকে দেখাশুনা করার সামর্থ্য আমার নেই। দয়া করে তার দেখাশুনার ভারটা নিন। আমি দুঃখিত। ’

আরেক বিপর্যস্ত মা মারিয়া ওই যুবকেন্দ্রে জোর করে তার আট বছর বয়সী শিশুকন্যা আনাসতাসিয়াকে গছিয়ে দিয়ে যান।

তিনি চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি চাকরি খুঁজে খুঁজে হয়রান। চাকরি খুঁজতে বাচ্চাকে বাসায় রেখে কয়েক ঘণ্টার জন্য তিনি বাইরে যেতেন। খাবার সংগ্রহ করতেন পার্শ্ববর্তী গির্জা থেকে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি রাতে বাড়িতে আমি একা খুব কাঁদতাম। কিন্তু কিছুই করতে পারতাম না। আমার কোনও উপায়
ছিল না। ’

যুবকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আন্তোনিওস পাপানিকোলাউ বলেছেন, ‘গত বছরে আমরা এমন কয়েকশ’ বাবা-মা পেয়েছি যারা তাদের সন্তানদের আমাদের কাছে দিতে চান। তারা আমাদের বিশ্বাস করছেন। ’

তারা বলতেন, ‘বাচ্চাদের খাওয়ানো-পরানোর মতো আর্থিক সঙ্গতি এবং কোনও বাসস্থান তাদের নেই। তাই তারা আশা করছেন আমরা তাদের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসব। ’

গ্রিসের ব্যয় সঙ্কোচন নীতির আরও একটি জ্বলজ্বলে উদাহরণ হচ্ছে, এসপিরিন এবং অন্যান্য ওষুধের ভয়াবহ সঙ্কট।

ফার্মাসিস্টরা যতোটা পারে ওষুধ মজুদ করার চেষ্টা করছে। সরকারের নতুন ব্যয় সঙ্কোচণ নীতিতে ওষুধের দাম কম রাখার চেষ্টা এক প্রকার ব্যর্থ করে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এর অর্থ দাঁড়ায়, ব্যবসায়ীরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় দেশে উৎপাদতি ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করছে। তাতে করে গ্রিসে ওষুধের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।