ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

‘বেরলুসকোনি তোমাকে অভিবাদন!’

রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩:১২, জানুয়ারি ১৩, ২০১২
‘বেরলুসকোনি তোমাকে অভিবাদন!’

রোম: ইউরোজোনের অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রত্যক্ষ বলি হয়েছে ইতালির এক বৃদ্ধ দম্পতি। অর্থ সঙ্কটে জর্জরিত এই দম্পতির আকুতি শুনেও নির্লিপ্ত ছিলেন উন্নত বিশ্বের কাতারভুক্ত এই দেশটির রাজনৈতিক নেতারা।

এ অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন তারা। তবে তারা তাদের স্বেচ্ছামৃত্যু উৎসর্গ করে গেছেন ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির প্রতি।

চাকরি, আশ্রয়, সম্মান সব হারিয়ে নিঃস্ব ৬৪ বছর বয়সী সালভাতোর দে সালভো এবং তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রী আন্তোনিয় আজ্জোলিনি গত রোববার আত্মহত্যা করেছেন।

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পুজলিয়ার অধিবাসী ছিলেন এই দম্পতি। আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া চিঠিতে (সুইসাইড নোট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেরলুসকোনি ও দেশটির শীর্ষ রাজনীতিকদের উদ্দেশে তাদের মৃত্যুর কারণ এবং করুণ অবস্থার এক মর্মর্স্পশী বর্ণনা রেখে গেছেন।

এর আগেও তারা স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে নিজেদের হতাশার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু তাদের আকুতিতে কেউ কর্ণপাত করেনি।

দীর্ঘ ৪৫ বছরের অবিচ্ছেদ্য দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা এই দম্পতি ২০১০ সালে এক টিভি চ্যানেলে অভিমান করে বলেছিলেন, সব কিছু হারিয়ে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমে বাকি জীবন কাটানোর বদলে তাদের কাছে মৃত্যুই শ্রেয়।

মৃত্যুর ছয় মাস আগেও তাদের একটি চিঠি ইতালির সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সিলভিও (তৎকালীন প্রধানমনন্ত্রী বের্লুসকোনি) মৃত্যুর আগে তোমাকে অভিবাদন। কীর্তিমান পুরুষ বেরলুসকোনি আমাদের শেষ বিদায় অভিবাদন তোমাকে উৎসর্গ করলাম। ’

মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে বেরলুসকোনির প্রতি লেখা খোলা চিঠিতে তারা লেখেন- বেরলুসকোনি, সংবাদপত্রে জানবে তুমি এবং তোমার মত রাজনীতিকদের নিষ্ঠুরতা আর ভণ্ডামী দেখতে দেখতে অতিষ্ঠ দু’জন মানুষ সব হারিয়ে সম্মানের সঙ্গে কীভাবে মৃত্যুবরন করে।
 
চিঠিতে তারা অভিযোগ করেন, বারংবার সাহায্যের আবেদনে বেরলুসকোনির তরফ থেকে অবজ্ঞা ছাড়া কিছুই মেলেনি। তাই সবকিছু হারিয়ে এই মৃত্যুকে তার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

আর্থিক সংকটে কাতর এই দম্পতি সাত বছর চেষ্টা করে এই দম্পতি কাজ পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। ধার-দেনার কারণে অবশেষে শেষ সম্বল বাড়িটিও হারান, যেখানে তারা ১৯৬৬ সাল থেকে বসবাস করছিলেন। প্রতি মাসে ৪০০ ইউরোরও কম খরচে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হন।

বেকারত্বের সময় তারা বিভিন্ন সংবাদপত্রে এবং রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে নিয়মিত চিঠি লিখতেন। এসব চিঠিতে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর তাদের গভীর হতাশাও ব্যক্ত করতেন।

কিন্তু তাদের এই অসহায়  আকুতি ভরা চিঠি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেরলুসকোনি বা প্রেসিডেন্ট আপুলিয়া নিচি ভেনদোলার মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হয়।

শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বৃদ্ধ দম্পতি। আত্মহত্যার আগে জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বারি শহরের তিন তারকা হোটেলের সমুদ্রমুখী কক্ষ ভাড়া করেন। এরপর এক ফাঁকে কাউকে কিছু না বলে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তারা।

স্ত্রী আনতোনিয় হোটেল কক্ষেই মৃত্যুবরণ করেন। তার স্বামী সালভাতোর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে হেঁটে সৈকত পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন। পরে জেলেরা সৈকত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

বাংলাদেশ সময়: ২২৩২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৩, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।