ঢাকা, শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

কসোভায় পুলিশ, সার্ব-বিরোধী বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩:৪৩, জানুয়ারি ১৫, ২০১২
কসোভায় পুলিশ, সার্ব-বিরোধী বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ

প্রিস্টিনা: সার্বিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন এক সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে কসোভায় সার্ব বিরোধী বিক্ষোকারীদের সংগে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।   কাদাঁনে গ্যাস নিক্ষেপ ও জলকামান দেগে বিক্ষোভকারীদের ছত্র ভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

এসময় প্রায় ১৪৬ জন প্রতিবাদ কারীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানায় পুলিশ।

কসোভার আলবেনীয় বংশোদ্ভুত বিক্ষোভকারীরা প্রতিবেশী সার্বিয়ার সীমান্তে জড়ো হয়ে একটি সীমান্ত সংযোগ সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা চালায় । পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময়  পুলিশের সংগে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, শনিবার দুই দেশের সীমান্তে সংঘটিত এই সংঘর্ষে ৩১ জন পুলিশ অফিসারসহ কমপক্ষে ৫২ জন বিক্ষোভকারী কমবেশি আহত হয় ।

আলবেনিয়ান সেলফ ডিটারমিনেশন মুভমেন্ট নামের কসোভার আলবেনীয় বংশোদ্ভুতদের  একটি সংগঠনের সদস্যরা কসোভা ও সার্বিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন এক সীমান্ত সংযোগ সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম ।  

কসোভার ডানপন্থি বিরোধীদলের নেতা আলবিন কুর্তির নেতৃত্বে এই সংগঠনটি সার্বিয়ার সংগে যে কোন রকম সম্পর্কের বিরোধী।   কসোভার অভ্যন্তরে সার্বীয় পণ্য প্রবেশে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে সীমান্ত সংযোগ সড়কটি অস্থায়ীভাবে বন্ধের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংগঠনটির সদস্যরা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় সমবেত প্রতিবাদকারীদের সংগে সংগঠনটির নেতা আলবিন কুর্তি আলবেনিয়ার পতাকা নাড়িয়ে যোগ দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘সার্বিয়া কসোভার শত্রু, তাই সার্বিয়ার কোন কিছুই কসোভার ভেতর দিয়ে যেতে পারবে না। ’

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ শেষে পুলিশ অবশেষে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করে রাস্তাটিতে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।

এ সময় দুটি সার্বীয় ট্রাককে পুলিশি পাহারায় কসোভার রাজধানী প্রিস্টিনার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম।

উল্লেখ্য, কসোভা আগে সার্বিয়ার একটি অংশ ছিল। কিন্তু কসোভার সংখ্যাগরিষ্ঠ আলবেনীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী সার্বিয়ার নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে সশস্ত্র সার্ব বাহিনী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ফলে উভয় পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে নারী,শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য বেসামরিক কসোভান নিহত হয়।

অবশেষে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপে কসোভা সার্বিয়ার কবল থেকে মুক্ত হয়। কসোভা সাবেক যুগোশ্লাভ ফেডারেশনের অন্তর্গত ছিল। এই ক্ষুদ্র বলকান দেশটির অধিকাংশ মানুষই আলবেনীয় বংশোদ্ভুত মুসলিম।

বাংলাদেশ সময়: ২০০৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।