বুখারেস্ট: রুমানিয়ার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট তারিয়ান বাসকোর অপসারণ চেয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করছে দেশটির জনগণ। রোববার রাজধানী বুখারেস্টের প্রধান স্কয়ারে সমবেত জনতা প্রেসিডেন্টের অপসারণ এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।
রাজধানী বুখারেস্টসহ দেশটির ১৮টি শহরেও একযোগে বিক্ষোভ চলছে সরকারের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার রাজধানীর বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১৭ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
২০০৪ সালে বাসকো নির্বাচনে জেতার পর এবারই সবচেয়ে জোরদার বিক্ষোভ করছে দেশটির জনগণ।
নিম্ন জীবনযাত্রার মানসহ নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রুমানিয়ায় অস্তোষ বাড়ছিল জনগণের মধ্যে। তাই উন্নত জীবন যাপনসহ ন্যায্য বিচারের দাবিতে রোববারও উত্তপ্ত ছিল রুমানিয়া।
বিক্ষোভকারীদের একজন রডিকা গানেয়া বলেন, ‘আমাদের কোনো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই। আমি এবং আমার স্ত্রী অবসর নিয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের সামান্য আয় আমাদের সন্তানদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি কারণ তার বেকার। সবকিছুর জন্য এখানে অনেক অর্থ গুনতে হয়। আমি এটা বহন করতে পারছি না। ’
অন্য অরেক বিক্ষোভকারী মারলিনা সালানও গানেয়ার মতো একই অভিযোগ তুলে ধরলেন। তিনি জানান, ‘আমার সন্তানেরা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা। কিন্তু তারা কোনো চাকরি পাচ্ছে না। তাদের কাজের জন্য বাইরে বাইরে ঘুরতে হচ্ছে। নিজেদের সন্তানদের পর্যন্ত তারা সময় দিতে পারছে না। বাবা-মা ছাড়াই তারা বড় হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ’
দেশটির স্বাস্থ্য খাত নিয়েই মূলত দ্বন্দ্ব শুরু হয় জনগণের মধ্যে। অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা এবং ঔষধ পত্রের আকাশচুম্বী দাম বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দেয় দেশটিকে।
বাসকো এক মন্তব্যে হাসপাতাল সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালগুলো পরিবর্তন হবে না। ডাক্তাররা জরুরী ভিত্তিতে সেবা দিতে চায় না। ’
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৬, ২০১২