ঢাকা: জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটাররা এবার মার্কিন ইলেক্টোরাল ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, নিদেন পক্ষে এই পরিবর্তনের সুফল কার ঝুলিতে যাবে; রিপাবলিকান না ডেমোক্র্যাটদের?
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে নানা কৌশল আর প্যাঁচ কষতে ব্যস্ত দুই দলই।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক এবং রাজনীতিকরা একমত, বর্তমানে জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটাররা মার্কিন রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণের অন্যতম নিয়ন্তা হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত ইলেক্ট্রোরাল সমীকরণকে বদলে দেওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে এই সংখ্যালঘু ভোটাররা।
এই পরিস্থিতিতে বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীরা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সংখ্যালঘু ভোটারদের মন গলাতেই আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত সংখ্যালঘু বলতে আগে বুঝানো হতো কালো আফ্রিকান আর লাতিন বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের। কিন্তু এখন এই কমিউনিটিতে যোগ হয়েছে এশীয় আমেরিকান, মুসলিম আমেরিকান, আদিবাসী আমেরিকান এবং আরো কিছু অভিবাসী সংখ্যালঘু গ্রুপ।
তবে এই সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের গতি নির্দেশক অবস্থানে রয়েছে লাতিনরা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হিস্পানিকদের (লাতিন) সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটিরও বেশি লাতিন বংশোদ্ভূত মানুষ রয়েছে।
হিস্পানিকদের পরেই রয়েছে কালো আমেরিকান কমিউনিটি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার আট ভাগের একভাগ হলো আফ্রিকান আমেরিকান। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বারাক ওবামা এই কালো আমেরিকান ভোটারদের একচেটিয়া ভোটেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পেরেছেন বলে অনেকে মনে করেন।
তবে এবার ঘটনা উল্টো দিকে মোড় নিতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা খাত জাতীয়করণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন গণমুখী ইস্যুতে ব্যর্থতার কারণে ২০১২’র নির্বাচনে এই সংখ্যালঘু ভোট ওবামার নিজের অ্যাকাউন্টে টানতে পারা অনেকটা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
এদিকে লাতিনরা ওবামার ওপর হতাশ। কারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে সংস্কার করতে পারেননি ওবামা। বরং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী বিতাড়নের হার আগের প্রশাসনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু গত নির্বাচনে ওবামার পেছনে এই লাতিন ভোটারদের সমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্য।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বিদ্যমান উচ্চ বেকারত্ব হার মার্কিন সমাজের অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর কালো এবং লাতিন মার্কিনীদের খুবই অসন্তুষ্ট করেছে।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেই বাড়তে থাকা ধনী-দরিদ্র বৈষম্য লাতিন ও কালো আমেরিকানদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের অনেকেই চাকরি হারিয়ে অবশেষে ব্যাংকের কাছে বাড়ি বন্ধক রেখে নিঃস্ব হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা প্রায় অবস্থায় নিপতিত।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, ওবামার এই ব্যর্থতার সুযোগ রিপাবলিকানরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারে। এই অসন্তুষ্ট সংখ্যা লঘুদের দৃষ্টি কোন কৌশলে তাদের দিকে ঘুরাতে পারে?
রিপাবলিকানরা বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু এবং অশ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের ব্যাপারে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়ে এসেছে।
তাই বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এই সংখ্যালঘু ভোটারদের মন জয় করতে রিপাবলিকানদের অধিকতর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তারা বলছেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সংখ্যালঘুদের প্রত্যাশা আশানুরূপ পূরণ করতে না পারলেও দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে ওবামা অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই তাদের স্বার্থে কাজ করবেন। তবে এ জন্য ওবামাকেও এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু অঙ্গীকার নিয়েই সংখ্যালঘু ভোটারদের দ্বারে যেতে হবে।
বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল দেখে মনে হচ্ছে রিপাবলিকানরা তাদের রক্ষণশীল খোলস ছেড়ে সংখ্যালঘুদের প্রতি উদারমানসিকতার প্রমাণ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
তবে নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ ততই স্পষ্ট হতে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সে যাইহোক, শেষ কথা হলো আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারক হবে এই সংখ্যালঘু ভোটাররাই। যে দল তাদের মনজয় করতে পারবে সে দলীয় প্রার্থীর বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় বলে মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অভিজ্ঞজনদের মত।
বাংলাদেশ সময়: ১৯২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১২